নিউজ ফ্রন্ট, বেলডাঙ্গা
হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই তিন কোম্পানি প্যারা মিলিটারি ফোর্স বেলডাঙার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল শুরু করেছে। কর্মতীর্থে অবস্থানরত বাহিনী সন্ধ্যা নামতেই শহর ও সংলগ্ন এলাকায় রুট মার্চ ও টহল দেয়।
উল্লেখ্য, বিহারে বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনাকে সামনে রেখে বেলডাঙায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, রেল ও সড়ক অবরোধ এবং বাস ও লরিতে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব হলেও এলাকা দীর্ঘ সময় ধরে উত্তপ্ত থাকে।
অশান্ত পরিস্থিতির জেরে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে ফের অশান্ত হয়ে উঠতে পারে—এই আশঙ্কায় হাইকোর্টের নির্দেশে মোট পাঁচ কোম্পানি প্যারা মিলিটারি ফোর্স মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে তিন কোম্পানি বাহিনী নামানো হয়েছে এবং তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই বেলডাঙার বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। এদিন রাতে বেলডাঙ্গা ছাড়াও ইসলামপুর থানার বিভিন্ন এলাকেতেও টহল দেয় পুলিশ এবং প্যারা মিলিটারি ফোর্স।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। কোথাও জমায়েত বা উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনও চেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না।
শনিবারেই বিকেলের পরেই বেলডাঙার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। দোকানপাট খুলে ওই দিন সন্ধে বেলাতেয়, যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, কোনও রকম ঝুকি নিতে তারা নারাজ ফলে কড়া নজরদারি বজায় থাকবে।