আই-প্যাক ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা! উত্তপ্ত কলকাতায় সশরীরে হাজির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) আধিকারিকরা। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী রণকৌশল প্রস্তুতকারী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC) এবং এই সংস্থার মালিক প্রতীক জৈনের বাসভবন ও অফিস।

তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে এদিন সকাল থেকেই প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়িতে ঢোকেন ইডি আধিকারিকরা। একই সাথে তাঁর অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী দল মূলত আই-প্যাকের আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন নথিপত্র পরীক্ষা করছেন বলে সূত্রের খবর। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে নথিপত্র স্ক্যান করার পাশাপাশি প্রতীক জৈনের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে।

এই অভিযানের মাঝেই সবথেকে বড় চমক দেখা যায় যখন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক জৈনের বাসভবনে পৌঁছান। কোনো এজেন্সির তল্লাশি চলাকালীন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সশরীরে ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক জৈনের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে দিল্লির উদ্দেশ্যে এই বার্তাই দিলেন যে, আই-প্যাকের ওপর আক্রমণ মানে সরাসরি তাঁর দলের রণকৌশলের ওপর আক্রমণ।

তৃণমূলের অভিযোগ, ভোট যত এগিয়ে আসছে, বিজেপি ততই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। আই-প্যাক যেহেতু তৃণমূলের সমস্ত নির্বাচনী ডেটা এবং কৌশলের দায়িত্ব থাকে, তাই সেই তথ্য হাতানোই ইডি-র মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি শাসক দলের। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির তথা বিজেপির দাবি—আই-প্যাকের মাধ্যমে কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পূর্ণ অধিকার তদন্তকারী সংস্থার রয়েছে।

আই-প্যাক দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলির জন্য কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে আসছে এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই সংস্থার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই কারণে আই-প্যাক ও তার কর্ণধারের বিরুদ্ধে ইডির অভিযান রাজ্য রাজনীতিতে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনার পর কলকাতার রাজপথে তৃণমূলের বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে ইডি আধিকারিকরা কী উদ্ধার করেন বা শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ পরিস্থিতির মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *