নিউজ ফ্রন্ট, দার্জিলিং | ৮ অক্টোবর ২০২৫
উত্তরবঙ্গের একের পর এক জেলায় প্রবল বৃষ্টি ও ভয়াবহ ভূমিধ্বসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাজ্যের প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংগঠন — সকলে একসঙ্গে হাত মিলিয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলছে জোর কদমে।
পূর্ত দফতর, জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতর, অসামরিক প্রতিরক্ষা, বিপর্যয় মোকাবিলা, বিদ্যুৎ ও দমকল — প্রতিটি দফতর মাঠে নেমে কাজ করছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এই দুর্যোগে, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধও রয়েছেন। মিরিক, নাগরাকাটা ও কালিম্পঙের একাধিক গ্রাম এখনও আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন।
নাগরাকাটায় ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে বিজেপি সাংসদের উপর হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে লোকসভার সচিবালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, “রাজ্য সরকার যদি দ্রুত রিপোর্ট না পাঠায়, তবে ‘স্বাধিকার ভঙ্গের’ অভিযোগ আনা হবে।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছেও উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন তিনি।
রাজ্যপাল ডঃ সি.ভি. আনন্দ বোস মঙ্গলবার নাগরাকাটায় গিয়ে ত্রাণ বিলি করেন এবং আহত সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে দেখা করেন।
রাজ্যপালের বক্তব্য, “গণতন্ত্রে এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় শান্তি ও সহযোগিতা সবচেয়ে জরুরি। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার আবেদন — পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবেন না।”
আজ সকালে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার শিলিগুড়ির হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংসদ ও বিধায়কের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
“ত্রাণ দিতে গিয়ে সাংসদ-বিধায়ক আক্রান্ত — এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি কেন, তার জবাব রাজ্য প্রশাসনকে দিতে হবে।”
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও মঙ্গলবার আহত নেতাদের দেখতে হাসপাতালে যান। এদিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দুধিয়া থেকে উত্তরকন্যা ফেরার পথে খগেন মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী সোমবার সকালেই মিরিকের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন, কথা বলেন দুর্গতদের সঙ্গে এবং আশ্বাস দেন রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহায়তার। তিনি জানান,
“ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে রাজ্য সরকার রয়েছে। ত্রাণ, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের কাজ দ্রুত শুরু হয়েছে।”

বিভিন্ন সংগঠনের মানবিক উদ্যোগ
রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এগিয়ে এসেছে মানবিক উদ্যোগে।
🔹 ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য দপ্তর দীনেশ মজুমদার ভবন থেকে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়েছে। রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ সকালে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
🔹 এর আগে এসএফআই রাজ্য কমিটির পক্ষেও দেবাঞ্জন দে-র নেতৃত্বে একটি দল রওনা হয় ত্রাণ নিয়ে।
🔹 এছাড়াও, স্টুডেন্টস হেলথ হোম দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সহায়তা ও আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। তাদের উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলি দুর্গতদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বহু মানুষ ইতিমধ্যেই আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন। এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসই বিপর্যয় মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও দলের প্রতিনিধি দল নিয়ে উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “এই বিপর্যয়কে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করা হোক। কেন্দ্র ও রাজ্য দুই প্রশাসনের যৌথ তৎপরতা দরকার।”