উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যয় — পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক

কলকাতা, ৫ অক্টোবর ২০২৫:
উত্তরবঙ্গে ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে আবহাওয়ার পরিস্থিতি। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ে ধস, সড়ক অবরুদ্ধ, যোগাযোগ ব্যাহত — সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। এই পরিস্থিতিতে পাঁচ জেলাশাসকের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি

নবান্ন থেকে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঠানো হয়েছে এক বিশেষ প্রশাসনিক দল। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সচিব। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কৃষি দফতরের সচিব, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের সচিব-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।
দলটি ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছে।

উত্তরবঙ্গের বন্যা ও ধস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে নবান্নে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম
সেখানে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, সেচ দফতরের সচিব মণীশ জৈন, এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব রাজেশ সিনহা
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নবান্ন থেকেই রিয়েল-টাইম মনিটরিং সমন্বয় চালানো হচ্ছে।

দার্জিলিং পাহাড় ও শিলিগুড়িতে আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে রাজ্য সরকার নিয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ।
দার্জিলিং জেলা পুলিশ খুলেছে পর্যটক কন্ট্রোল রুম, যেখানে ২৪ ঘণ্টা তথ্য ও সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজ্য পরিবহণ দফতর তিনটি বিশেষ সুপার এক্সপ্রেস বাসের ব্যবস্থা করেছে, যা আজ শিলিগুড়ি তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস থেকে কলকাতার উদ্দেশে ছাড়বে।
🕠 বিকেল ৫.৩০ | 🕕 সন্ধ্যা ৬টা | 🕖 সন্ধ্যা ৭টা

গত রাতের ভারী বৃষ্টিতে দার্জিলিং-এর একাধিক রাস্তায় ধস নামায় যান চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিছু এলাকায় সম্পূর্ণভাবে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, যদিও প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে
এছাড়াও, পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নতুন করে ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন —

“মানুষের প্রাণ রক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত পুনরুদ্ধারই এখন অগ্রাধিকার। প্রত্যেক জেলা প্রশাসনকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে হবে।”

সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সেচ দফতর নদীর জলস্তর পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনবোধে সতর্কবার্তা জারি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *