রাজ্যপালের আয়োজনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, মঞ্চস্থ করলো ‘নয়াবাদ তিতাস’, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের মেলবন্ধন
কলকাতা, ২৭ জুলাই ২০২৫: গত কাল সন্ধ্যায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রাজভবনে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজনে ড. সি. ভি. আনন্দ বোস রচিত নাটক ‘চৌরঙ্গী’স ফ্লাওয়ার’ (Chowringhee’s Flower)-এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হলো। এই মনোজ্ঞ এবং উচ্চাঙ্গের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেন স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ডঃ সি. ভি. আনন্দ বোস। এই আয়োজনটি রাজভবনের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করল, যেখানে সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক ব্যতিক্রমী মেলবন্ধন দেখা গেল।
রাজভবনের সুসজ্জিত দরবারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহরের বিশিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ এবং সংস্কৃতি জগতের বহু পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি এই সন্ধ্যার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। অতিথিরা রাজ্যপালের এই ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

‘চৌরঙ্গী’স ফ্লাওয়ার’ নাটকটি রচনা করেছেন স্বয়ং রাজ্যপাল ড. সি. ভি. আনন্দ বোস। তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার এটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নাটকটি পরিচালনা করেন প্রখ্যাত মঞ্চ পরিচালক মনোজ কুমার সাহা, যিনি তাঁর নির্দেশনার মাধ্যমে নাটকের প্রতিটি চরিত্র ও দৃশ্যকে জীবন্ত করে তুলেছেন। নাটকটি মঞ্চস্থ করে নাট্যদল ‘নয়াবাদ তিতাস’। এই নাট্যদল তাদের পেশাদারিত্ব এবং অভিনয়ের গভীরতার জন্য পরিচিত। তাদের পরিবেশনা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায় এবং নাটকের মূল বার্তা সফলভাবে তুলে ধরে।
রাজ্যপালের এই উদ্যোগ কেবল একটি নাটকের প্রিমিয়ার ছিল না, বরং এটি রাজভবনকে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। সাধারণত রাজভবন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হলেও, এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন এর ঐতিহ্যবাহী ভূমিকাকে আরও সমৃদ্ধ করে। রাজ্যপাল ডঃ সি. ভি. আনন্দ বোসের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণিত হলো। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করছেন, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নাটকটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নাটকের বিষয়বস্তু, অভিনয় এবং নির্দেশনা সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই ধরনের উচ্চমানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কলকাতায় আরও বেশি আয়োজিত হোক, এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন উপস্থিত দর্শকরা। এই প্রিমিয়ারটি কেবল একটি সফল সন্ধ্যা ছিল না, এটি সংস্কৃতি ও প্রশাসনের মধ্যে একটি সুন্দর সেতুবন্ধনও তৈরি করেছে।