নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদঃ
বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা যেমন বাড়ছে, তেমনি তাকে ঘিরে বিতর্ক ও হুমকির ঘটনাও বারবার শিরোনামে আসছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেককে প্রাণনাশের হুমকির একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যা শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি কীভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন মুর্শিদাবাদের ডোমকলের বাসিন্দা শারিজুল শেখ। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সাইবার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে হরিয়ানার আম্বালা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে সহযোগিতা করে হরিয়ানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৪ অগাস্ট মুর্শিদাবাদ জেলার সাইবার থানায় এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, শারিজুল একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ১০ দিনের মধ্যে হামলার হুমকি দেন। সেই সঙ্গে বেআইনি অস্ত্র কারবারের সঙ্গেও তার যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। টেকনিক্যাল ট্র্যাকিং ও সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা যায়, হুমকির পোস্টটি শারিজুল শেখ নামে এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছিল। এরপর হরিয়ানা পুলিশের সহযোগিতায় মুর্শিদাবাদ পুলিশ সোমবার ২৫ অগাস্ট রাতে আম্বালা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, শারিজুলের ফেসবুক প্রোফাইল এবং মেসেঞ্জার চ্যাট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা সমেত একাধিক ছবি, ভিডিও এবং কথোপকথন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবী, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তিনি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালবাগ) রাসপ্রীত সিং বলেন, “ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হবে। পাশাপাশি, জেলার অন্য থানাগুলিতে তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশি জেরায় শারিজুল নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে সূত্রের দাবি। বুধবার তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে জেলা নিয়ে আসা হবে। বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করে পুলিশ তার ৭ দিনের হেফাজতের আবেদন জানাবে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে কড়া নজর রাখছে পুলিশ প্রশাসন।