নিজস্ব প্রতিনিধি, শমসেরগঞ্জ | ৮ জানুয়ারি, ২০২৬
মুর্শিদাবাদ জেলার শমসেরগঞ্জে এক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল তারাপুর হাসপাতাল চত্বর। হাসপাতালের পিছনের একটি নির্জন বাগান থেকে উদ্ধার হলো এক মহিলার ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধনগ্ন দেহ। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, মৃতদেহের পাশেই যন্ত্রণায় ছটফট করছিল তাঁর তিন বছর বয়সী শিশুপুত্র। বৃহস্পতিবার ভোরের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারাপুর হাসপাতালের পিছনের বাগানটি বেশ নির্জন এবং ঝোপঝাড়ে ভরা। বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের এক রোগীর পরিজন বাগানের দিকে গেলে একটি ঝোপের মাথায় মাছি ভনভন করতে দেখেন। কাছে যেতেই তাঁর নজরে আসে রক্তাক্ত এক মহিলার দেহ এবং পাশে পড়ে থাকা একটি শিশু। তিনি দ্রুত হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের খবর দিলে তাঁরা পুলিশকে সংবাদ দেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে শমসেরগঞ্জ থানার পুলিশ বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখতে পায়। মহিলার বয়স আনুমানিক ২৫-৩০ বছর। তাঁর পরনের পোশাক ছিল অবিন্যস্ত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাঁকে শ্বাসরোধ করে বা ভোঁতা কিছু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে। মৃতদেহের পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল মহিলার ৩ বছর বয়সী পুত্রসন্তান। শিশুটির কানের পাশে এবং মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে প্রবল আতঙ্কে কাঁদছিল।
পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। জখম শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে অনুপনগর ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদেহের অবস্থা দেখে পুলিশের একাংশের ধারণা, ওই মহিলাকে গণধর্ষণ করার পর খুন করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পুলিশ নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে চাইছে না। এখনও পর্যন্ত মহিলার পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ পার্শ্ববর্তী থানাগুলোতে এবং ঝাড়খণ্ডের সীমানা সংলগ্ন এলাকায় ছবি পাঠিয়ে পরিচয় জানার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোমিন জানান, “সকালে বাগানে যেতেই দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় মহিলা পড়ে রয়েছেন। বাচ্চাটা পাশে জখম অবস্থায় ছটফট করছে। দৃশ্য দেখে শরীর দিয়ে হিমস্রোত বয়ে গিয়েছিল আমাদের।” হাসপাতালের পিছনের অরক্ষিত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
শমসেরগঞ্জ থানার এক আধিকারিক জানান, “ঘটনার সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃতার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। শিশুটি সুস্থ হলে তার কাছ থেকেও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।”
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পিছনে এমন নৃশংস ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ, দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন তদন্তকারীরা।