মুম্বই, ২১ অক্টোবর — হিন্দি সিনেমার স্বর্ণযুগের আরও এক নক্ষত্র পতন। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা গোবর্ধন আসরানি, যিনি দর্শকদের কাছে শুধুমাত্র আসরানি নামেই পরিচিত ছিলেন। সোমবার বিকেলে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। দীর্ঘ অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।
অভিনেতার ম্যানেজার বাবুভাই থিবা জানান, “কিছুদিন ধরেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন আসরানি সাহেব। ফুসফুসে জল জমেছিল। আজ বিকেল তিনটে নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।” তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় সান্তাক্রুজ শ্মশানে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।
জয়পুরে জন্মগ্রহণকারী আসরানি সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই পা রাখেন চলচ্চিত্র জগতে। প্রায় পাঁচ দশক জুড়ে ৩০০-রও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অসাধারণ কমেডি টায়মিং এবং সহজাত অভিনয়শৈলী দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
‘শোলে’ সিনেমায় তাঁর কিংবদন্তি সংলাপ — “হাম আংরেজোঁ কে জামানেঁ কে জেলর হ্যায়”— আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। সেই চরিত্রের মডেল ছিলেন চার্লি চ্যাপলিনের The Great Dictator ছবির স্বৈরশাসক চরিত্রটি থেকে অনুপ্রাণিত। ‘শোলে’ ছাড়াও ‘নমক হরাম’, ‘গুড্ডি’, ‘বাওর্চি’, ‘গোলমাল’, ‘হেরা ফেরি’, ‘চুপ চুপ কে’, ‘হুলচুল’, ‘ধামাল’ এবং ‘ওয়েলকাম’-এর মতো বহু জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় স্মরণীয় হয়ে আছে।
তাঁর ভাতিজা অশোক আসরানি জানান, “বিকেল চারটের কিছু আগে উনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন সবার প্রিয়, সেটে সর্বদা হাসিখুশি মানুষ। তাঁর মৃত্যু হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বলিউড। পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিনেতার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, কোনও আড়ম্বর ছাড়াই শুধুমাত্র পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যায় সান্তাক্রুজ শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তিনি স্ত্রী ও পরিবারকে রেখে গেলেন। আসরানির মৃত্যুতে হিন্দি সিনেমার এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে আসরানির অবদান অপরিসীম। তিনি শুধু এক জন কৌতুক অভিনেতা নন, বরং এক যুগের প্রতীক — যাঁর অভিনয় দর্শকদের মুখে আজও হাসি ফোটায়, আবার একই সঙ্গে ছুঁয়ে যায় মনকেও।