নিউজ ফ্রন্ট, ঢাকা, ১৬ নভেম্বর:
বাংলাদেশে বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আগামীকাল রায় ঘোষণা করতে চলেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT)। মামলাটির মূল আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণার তারিখ নিশ্চিত করেছে। রায় ঘোষণার আগে ঢাকার ট্রাইব্যুনাল চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) এবং সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগের সূত্র গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র–নেতৃত্বাধীন আন্দোলন। প্রসিকিউশনের দাবি, সেই সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের উপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছিল।
এই অভিযানের দায় শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার ফল বলেই অভিযোগ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বর্তমানে দেশের বাইরে। অস্থিরতার পর তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতেই বিচার চলছে। অন্যদিকে প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বর্তমানে হেফাজতে আছেন এবং তিনি রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দিয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে। তাঁর বয়ানে নীতিনির্ধারকদের নির্দেশ কীভাবে কার্যকর করা হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত বহু তথ্য উঠে এসেছে।
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকায় এই রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রায়ের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক আবহে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার আগেই বাংলাদেশজুড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত, এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।