নিউজ ফ্রন্ট, নয়া দিল্লি, ১১ অক্টোবর :
চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি ঘোষণা করেন যে,, আগামী ১ নভেম্বর থেকে চীনের ওপর ১০০ শতাংশ নতুন আমদানি শুল্ক (Tariff) কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রতি ‘গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার’-এর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা Export Control জারি করতে চলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন,
“চীন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অতি আগ্রাসী মনোভাব নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তার উপযুক্ত জবাব দেবে।”
তিনি জানান, চীনের রেয়ার আর্থ মিনারেল বা বিরল খনিজ রপ্তানি সীমাবদ্ধতার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিরল খনিজ পদার্থগুলি (Rare Earth Elements) আধুনিক প্রযুক্তির উৎপাদনে অপরিহার্য—যেমন স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যানবাহন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তিতে। বর্তমানে এই খনিজ উপাদানের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের ৭০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে চীন।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হতে পারে। যদিও পরে তিনি স্পষ্ট করেন যে, “বৈঠকটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি, তবে তা আদৌ হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।”
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন শুল্ক নীতি মার্কিন বাজারে ভোক্তা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, বেইজিং ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে এবং প্রয়োজনে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবে।