যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পপন্থী রক্ষণশীল নেতা চার্লি কার্ককে গুলি করে হত্যা

নিউজ ফ্রন্ট, ১১ সেপ্টেম্বরঃ

যুক্তরাষ্ট্রে ফের রাজনৈতিক সহিংসতার রক্তাক্ত ছবি। প্রখ্যাত রক্ষণশীল কর্মী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী চার্লি কার্ককে প্রকাশ্যেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার উটাহ রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতা চলাকালীন দূর থেকে ছোড়া গুলিতে কার্কের গলা ভেদ করে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৩,০০০ মানুষের ভিড় ছিল ওই অনুষ্ঠানে। সন্দেহ করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের ছাদ থেকে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মাত্র একটি গুলিই ছোড়া হয়েছিল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কার্ককে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।


শুরুর দিকে এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে, একজন সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরেই উটাহ কর্তৃপক্ষ এবং এফবিআই উভয়েই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং মূল হামলাকারী এখনো পলাতক। বর্তমানে, অপরাধীকে ধরতে একটি বড় ধরনের ‘ম্যানহান্ট’ বা তল্লাশি অভিযান চলছে। উটাহ ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি এই হামলাকে একটি ‘লক্ষ্যভিত্তিক’ (targeted) হামলা বলে উল্লেখ করেছে।

কে ছিলেন চার্লি কার্ক?

৩১ বছর বয়সী চার্লি কার্ক মার্কিন ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। ২০১২ সালে তিনি টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ নামে এক ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা মার্কিন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রক্ষণশীল মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর লাখো অনুসারী ছিল। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে কার্ককে অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখা হতো।

মার্কিন রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্কের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি কার্ককে ‘সত্যের জন্য শহীদ’ আখ্যা দিয়েছেন এবং তার সম্মানে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশব্যাপী পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশালে’ এক ভিডিও বার্তায় এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘উগ্র বামপন্থীদের’ (radical left) দায়ী করেছেন।

অপরদিকে, হাউস স্পিকার মাইক জনসন এই হামলাকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে কার্কের সম্মানে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়, যদিও এর পরপরই সদস্যদের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমসহ বিরোধী দলের অনেক নেতাও এই রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা করেছেন।

গত বছর দু’বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ওপর আঘাত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা একের পর এক ঘটছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *