মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় বড়সড় পরিবর্তন, বছরে ১ লক্ষ ডলার ফি চাপাল ট্রাম্প প্রশাসন

নিউজ ফ্রন্ট, ২০ সেপ্টেম্বর:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুক্রবার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল। এবার থেকে যে কোনও মার্কিন সংস্থাকে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য বছরে ১ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা) ফি গুনতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন ভারতীয় পেশাজীবীরা, কারণ এই ভিসার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাই সর্বাধিক।

নতুন নিয়ম কী বলছে?

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য আমেরিকার চাকরির বাজারকে সুরক্ষিত রাখা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, এতদিন বিদেশি কর্মীদের কম খরচে এনে কোম্পানিগুলি স্থানীয় কর্মীদের সুযোগ কেড়ে নিচ্ছিল। এখন থেকে শুধুমাত্র সবচেয়ে দক্ষ ও যোগ্য বিদেশিরাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পাবেন। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সরাসরি বলেন,
বিদেশিদের সস্তায় এনে কাজ করানোর দিন শেষ। এবার থেকে যে কোনও সংস্থাকে কর্মীকে বেতন দেওয়ার আগে সরকারকে লক্ষ ডলার দিতে হবে।”

ভারতীয় কর্মীদের কী প্রভাব পড়বে?

এই নতুন নীতির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন ভারতীয় পেশাদাররা। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে আমেরিকায় এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ভারতীয়রা। গত বছর মঞ্জুর হওয়া মোট ভিসার প্রায় ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয়দের। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন (১১.৭ শতাংশ)।

প্রযুক্তি সংস্থা যেমন অ্যামাজন, মাইক্রোসফ্ট এবং মেটার মতো কোম্পানিগুলি প্রতি বছর হাজার হাজার এইচ-১বি ভিসার আবেদন করে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কোম্পানিগুলিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত কর্মীদের ওপরই চাপানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে আমেরিকায় চাকরি পাওয়া এবং পরবর্তীতে স্থায়ী নাগরিকত্ব (গ্রিন কার্ড) লাভ করা ভারতীয়দের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন ফি কোম্পানিগুলিকে ভিসা প্রক্রিয়ায় নিরুৎসাহিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের বোঝা কর্মীদের উপর চাপানো হবে। অর্থাৎ, ভারতীয় আইটি ও প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য আমেরিকায় কাজ করা, এমনকি গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

এইচ-১বি হলো একটি অ-অভিবাসী ভিসা, যা ১৯৯০ সালে চালু হয়েছিল। এটি সাধারণত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে উচ্চ দক্ষ কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়। এর প্রাথমিক মেয়াদ তিন বছর, যা সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়। এই সময়ের মধ্যে কর্মীরা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পান। গ্রিন কার্ড পেলে ভিসার মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো সম্ভব হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নীতি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার বড়সড় সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে ভারতীয় কর্মীদের উপরেই, যারা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার আইটি শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *