পুলিশ পরিচয়ে ট্রাক হাইজ্যাক! বড়ঞা থানার তৎপরতায় ১০ দুষ্কৃতী গ্রেফতার, উদ্ধার ১৮ চাকার লরি

মুর্শিদাবাদ: পুলিশের পরিচয় দিয়ে নকল স্টিকার লাগানো গাড়ি ব্যবহার করে পণ্যবাহী ট্রাক ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক বিশাল চক্রের পর্দাফাঁস করল মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার পুলিশ। সুসংগঠিত এই অপরাধী দলের ১০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, হাইজ্যাক হওয়া ট্রাক এবং অপরাধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও একাধিক গাড়িও উদ্ধার হয়েছে।

গত ২০ আগস্ট রাতে বীরভূমের রামপুরহাট থেকে একটি ১৮ চাকার পণ্যবাহী ট্রাক আসছিল। বড়ঞা থানার হাজিপুর-আন্দি বাইপাস রোডের কল্যাণপুর এলাকায় একটি বোলেরো গাড়ি ট্রাকটির পথ আটকায়। এই বোলেরোর উইন্ডস্ক্রিনে ‘পুলিশ’ লেখা একটি স্টিকার লাগানো ছিল। গাড়িতে থাকা ছয়জন দুষ্কৃতীর মধ্যে দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা ট্রাকের চালক ও দুই খালাসিকে জোর করে নামিয়ে গামছা দিয়ে হাত-মুখ বেঁধে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর তাদের বড়ঞা থানা এলাকার বিচুর ক্যানেলের কাছে একটি নির্জন জায়গায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এদিকে, দুষ্কৃতী দলের দুজন সদস্য ট্রাকটি নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে পালিয়ে যায়। কোনোক্রমে মুক্ত হয়ে ট্রাকের চালক ও খালাসিরা তাদের মালিককে খবর দেন এবং ২১ আগস্ট বড়ঞা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কান্দির এসডিপিও সাশ্রেক অম্বরদারের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে তদন্তের জাল বিস্তার করে। এই ধারাবাহিক তদন্তে পুলিশ ধাপে ধাপে অপরাধীদের নাগাল পায়।

প্রথম দফায় গত ৩১ আগস্ট ছয়জনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জেরা করে চক্রের মূল হোতা মহিদুল আলম ওরফে কাজলের নাম সামনে আসে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২ সেপ্টেম্বর আরও সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে মহিদুলও ছিল। সব মিলিয়ে মোট ১০ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা থেকে হাইজ্যাক হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এছাড়া, অপরাধে ব্যবহৃত তিনটি গাড়ি— একটি বোলেরো, একটি নিসান ম্যাগনেট এবং একটি স্করপিও— বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

কান্দির এসডিপিও সাশ্রেক অম্বরদার বলেন,
“এটি একটি সংগঠিত চক্র। প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে তদন্ত এগিয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমরা ১০ জনকে গ্রেফতার করেছি। পণ্যবাহী লরি, ব্যবহার করা গাড়ি ও আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত চলছে, আরও তথ্য উঠে আসতে পারে।”

পুলিশের দাবি, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটে সক্রিয় ছিল। ধৃতদের মধ্যে বেশিরভাগেরই বাড়ি মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এই সফল অভিযানে বড়ঞা থানার পুলিশ এক বিশাল অপরাধী চক্রের কার্যকলাপকে থামিয়ে দিতে পেরেছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *