‘মুর্শিদাবাদে শূন্য পাবে তৃণমূল’, মমতার সফরের আগেই বিরোধী দলনেতার তোপ

লড়াই হবে কংগ্রেস-সিপিএমের সঙ্গে, তৃণমূল সিনেই নেই’, মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

নিজস্ব সংবাদদাতা, সুতি | ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মুর্শিদাবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার ঠিক আগেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মালদহে সভা সেরে ফেরার পথে মুর্শিদাবাদের সুতিতে দাঁড়িয়ে তিনি একদিকে যেমন ওয়াকফ বিল নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন, অন্যদিকে চব্বিশের লোকসভা ফলের তোয়াক্কা না করে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনেই তৃণমূলকে শূন্য হাতে ফেরানোর ভবিষ্যদ্বাণী করলেন।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে এতদিন মুসলিম সমাজকে ভুল বুঝিয়েছেন, কিন্তু এখন রাজ্য সরকার পরোক্ষভাবে সেই বিল মেনে নিয়েছে। তিনি বলেন:

“আজকে ওয়াকফ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল রাজ্য সরকার কার্যকর করে দিয়েছে। আমি ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বদের প্রশ্ন করতে চাই, মুখ্যমন্ত্রী আপনাদের বলেছিলেন এই আইন কার্যকর করতে দেবেন না। অথচ আজ তিনি তা মেনে নিলেন। অন্যদিকে আপনাদের ভুল বুঝিয়ে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করালেন। মোদীজি এই আইন এনেছেন অসহায় মুসলিম মহিলা এবং অনাথদের কল্যাণে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী একদিকে মানুষকে উসকে দিয়ে হিংসা ছড়ালেন, আবার অন্যদিকে আইনও কার্যকর করলেন।”

মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এখানে এসেছেন ধুলিয়ান-শামসেরগঞ্জ থেকে সিআরপিএফ ও বিএসএফ তোলার জন্য এবং অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার জন্য।” ওয়াকফ আন্দোলনের নামে সাম্প্রতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সাধারণ হিন্দু থেকে শুরু করে হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসদের কী অপরাধ ছিল? মুখ্যমন্ত্রী আগে তাঁদের কাছে ক্ষমা চান।”

ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল ‘শূন্য’?

একুশের বিধানসভা এবং চব্বিশের লোকসভায় মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের দাপট দেখা গেলেও, শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ২০২৬ সালে ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যাবে। সাগরদিঘি উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন “আমি সাগরদিঘিতে বলেছিলাম তৃণমূল জিতবে না, তারা হারবে। আজ সুতির মাটিতে বলে গেলাম, ২০২৬ সালে জেলার ২২টি আসনের একটিতেও তৃণমূলের অস্তিত্ব থাকবে না। তৃণমূল শূন্য হাতে ফিরবে।”

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, মুর্শিদাবাদে আগামী নির্বাচনে তৃণমূলকে লড়াইয়ের ময়দানেই রাখলেন না তিনি। শুভেন্দুর দাবি, “এখানে লড়াই হবে বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেস, সিপিএম ও আইএসএফ-এর।” তিনি আরও বলেন, জেলার শুধু সনাতনী হিন্দুরাই নন, ‘রাষ্ট্রবাদী মুসলিমরাও’ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করবেন। তবে তিনি ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরির প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করে হলে তিনি বলেন “এসব বিষয়ে আমি নেই।”

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদ একসময় কংগ্রেসের গড় হলেও বর্তমানে লোকসভার তিনটি আসন এবং ২২টি বিধানসভার মধ্যে ২০টিই তৃণমূলের দখলে। তবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই জেলায় শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং হুমায়ুন কবীরের মতো বিধায়কদের বিতর্কিত মন্তব্য দলকে অস্বস্তিতে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতার এই চ্যালেঞ্জ জেলা রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করল। বৃহস্পতিবার বহরমপুর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *