আইসিডিএস সুপারভাইজর পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি টাকার প্রতারণা! বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশের জালে মুর্শিদাবাদের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মুস্তাক আহমেদ ও তাঁর সহযোগী আব্দুস শাহিন মণ্ডল (গাবা)। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট আইসিডিএস অফিসে ভুয়ো নিয়োগপত্র দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদ থেকে বিধাননগর পর্যন্ত।
নিউজ ফ্রন্ট, বিধাননগর, ১৮ অক্টোবরঃ
চাকরির লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শেষমেশ ধরা পড়ল এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির প্রাক্তন তৃণমূল ব্লক সভাপতি মুস্তাক আহমেদ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আব্দুস শাহিন মণ্ডল গাবাকে।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা আইসিডিএস (ICDS)-এর সুপারভাইজর পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক প্রার্থীকে প্রতারণা করেছিল। অভিযোগ, নদিয়ার রিপন মণ্ডলের স্ত্রী শবনম মুসতারীকে ‘আইসিডিএস সুপারভাইজর’ পদে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুস্তাক আহমেদ তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ₹১০ লক্ষ ৩৪,৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ওই ভুয়ো নিয়োগপত্র স্পিড পোস্ট ও ইমেইল মারফত পাঠানো হয়। নিয়োগপত্রে লেখা ছিল যে শবনম মুসতারীকে উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট আইসিডিএস অফিসে যোগ দিতে হবে। কিন্তু যখন তিনি শৈশালী ভবনে উপস্থিত হয়ে আইসিডিএস-এর সহকারী পরিচালক ভাস্কর ঘোষের কাছে যোগদানের জন্য আসেন, তখনই নিয়োগপত্রটি জাল বলে ধরা পড়ে।

ভাস্কর ঘোষ বিষয়টি বুঝতে পেরে ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিধাননগর উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অমিত বসু, আশিস পুষ্টি, মুস্তাক আহমেদ-এর নামে প্রতারণা, সরকারি নথি জালিয়াতি সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ তদন্তে নেমে গতকাল জলঙ্গি থেকে মুস্তাক আহমেদকে গ্রেফতার করে। পরে তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে ধরা হয় সহযোগী আব্দুস শাহিন মণ্ডল-কে। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, নদিয়ার রিপন মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয় শাহিন মণ্ডল, আর এর বিনিময়ে সে ₹২ লক্ষ টাকা পায়।

মুস্তাক আহমেদ একসময় জলঙ্গি দক্ষিণ ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি ছিলেন এবং স্থানীয় বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক, জলঙ্গি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কবিরুল ইসলাম, ও বর্তমান ব্লক সভাপতি আরিফ বিল্লাহ-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তাঁর।
স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় সবসময়ই তাঁকে বিধায়ক ও পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে দেখা যেত, যা এলাকায় তাঁর প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেছিল। সেই রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস অর্জন করেন এবং চাকরির নামে অর্থ আদায়ের কাজ চালাতেন বলে অভিযোগ।
জলঙ্গি এলাকায় এই গ্রেফতারি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও মুস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে চাকরির নামে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনায় আবারও সামনে এল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা চাকরি প্রতারণা চক্রের ভয়াবহ রূপ। প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জাল নিয়োগপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা রুখতে শীঘ্রই বিশেষ অভিযান শুরু হবে।