ভোটারদের হুমকি দিয়ে আটক তৃণমূল নেতা।  

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যখন সাজসাজ রব, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে পেশিশক্তির আস্ফালনের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের সরাসরি হুমকি দেওয়া এবং নজরদারির ভয় দেখানোর অভিযোগে আটক করা হলো স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজু মণ্ডলকে। শুক্রবার রাতে কমিশনের নির্দেশে পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।

বিতর্কের সূত্রপাত: কী বলেছিলেন রাজু মণ্ডল?

বহরমপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন রাজু মণ্ডল। সেখানে ভোটারদের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায় “পদ্মফুলে ভোট দেওয়া যাবে না। যদি ভোট গন্ডগোল হয়… তবে ভোট দিতে যাওয়ার দরকার নেই। বাড়িতে আমি ছানাবড়া, রসগোল্লা পাঠিয়ে দেব। আর না হলে তৃণমূলকে ভোট দিতে হবে।”

শুধু তাই নয়, ভোটারদের ব্যক্তিগত পরিসরে নজরদারির ভয় দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁদের কাছে ‘রেজিস্ট্রার খাতা’ থাকবে এবং ‘লাইভ ক্যামেরা’র মাধ্যমে কে কাকে ভোট দিচ্ছে তা দেখে নেওয়া হবে।

বর্তমান বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী বলে সরব হন। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দেবে, এটাই সাংবিধানিক নিয়ম। কিন্তু কিছু ‘মাতব্বর’ ঘুরে ঘুরে মেশিন আর ক্যামেরার ভয় দেখাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, নতুবা মানুষ ভোটারধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।”

অভিযোগ কার্যত এড়িয়ে গিয়ে বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় পালটা তোপ দাগেন। তাঁর দাবি, “বিজেপি ফেক অভিযোগ করছে। ওরাই তো সংবিধান বিরোধী কথা বলে যে হিন্দুরা যেন তৃণমূলকে ভোট না দেয়। বিজেপি আসলে হারার ভয়ে কমিশনের দোহাই দিচ্ছে। আর কংগ্রেস এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক লস প্রজেক্ট।”

স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন অধীর চৌধুরী। ভোটারদের অভয় দিয়ে তিনি বলেন “তৃণমূলের কোনো বাঁদর, মস্তান বা উল্লুখোর যদি ভয় দেখায়, আমাকে একটা ফোন করবেন আর তার নামটা বলবেন। ৫০০-১০০০ টাকা আর মাংস-ভাতের লোভ দেখিয়ে ভোট লুটের যে চক্রান্ত আইপ্যাকের পরামর্শে চলছে, তা সফল হতে দেব না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের উপরতলায় বদল হলেও নিচুতলার পুলিশের সঙ্গে তৃণমূলের ‘অশুভ আঁতাত’ এখনও অটুট।

মালদহ কাণ্ডের পর থেকেই বাংলায় কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাফ জানানো হয়েছিল, কোনোভাবেই ভোটারদের ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না। সেই নির্দেশের প্রতিফলন হিসেবেই রাজু মণ্ডলের এই দ্রুত গ্রেফতারি। কালিয়াচক কান্ডের তদন্তভার ইতিমধ্য়েই এনআইএ (NIA)-কে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *