তৃণমূল গরিবদের টাকা লুটছে, মানুষ সস্তা রাজনীতি বুঝে গেছে- হুমায়ুন কবীর

নয়াদিল্লি | ৯ জানুয়ারি:
তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর ফের তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। গরিবদের আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “তৃণমূল গরিবদের টাকা লুট করছে। যদি গরিবদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে সেই টাকা গরিবদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে না কেন?”

হুমায়ুন কবীরের দাবি, রাজ্যের মানুষ এখন তৃণমূলের ‘সস্তা রাজনীতি’ ভালোভাবেই বুঝে ফেলেছে। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নের কথা বলে গরিবদের প্রাপ্য অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে, অথচ সেই লুটের টাকার কোনও জবাবদিহি নেই।

এই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়–এর এক সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি এক সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেন, সেখানে শুধু ইট রাখা রয়েছে এবং কিছু নেতা ধর্মের নামে রাজনীতি করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। তিনি মঞ্চ থেকে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানান, মসজিদের জন্য টাকা না দিয়ে গরিবদের সাহায্য করার জন্য।

অভিষেকের ওই মন্তব্যের কড়া জবাব দেন হুমায়ুন কবীর। সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের সন্ত্রাস ও দুর্নীতির প্রতিবাদে। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের গুন্ডা ও চোরেদের হাত থেকে বাঁচতেই মানুষ সেদিন বিজেপির দিকে তাকিয়েছিল।”

একই সঙ্গে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন। হুমায়ুন কবীর বলেন, বিজেপি থেকে আসা বহু নেতাকেই তৃণমূল ‘রেড কার্পেট’ পেতে দলে নিয়েছে, টিকিট দিয়েছে এবং মন্ত্রী বানিয়েছে। তাঁর দাবি, “যারা এক সময় ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে চিহ্নিত ছিলেন, দলে ঢুকলেই তাঁরা ধোয়া তুলসীপাতা হয়ে যান।”

এছাড়াও তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির সঙ্গে জোট ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার সময় তৃণমূলের ধর্মনিরপেক্ষতা কোথায় ছিল।

হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, তৃণমূল একদিকে মানুষকে ধর্মীয় অনুদান না দেওয়ার উপদেশ দিচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থে ক্লাব ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “পুজোয় অনুদান দিলে সেটা সংস্কৃতি, আর মানুষ নিজের ধর্মস্থানে দান করলে সেটা অপচয়—এই ভণ্ডামি আর চলবে না।”

শেষে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমরা কারও দয়ার পাত্র নই। আমরা আমাদের ধর্ম পালন করব, আবার গরিব মানুষের পাশেও দাঁড়াব। কিন্তু তৃণমূল বা তার নেতাদের সার্টিফিকেট নিয়ে ধর্ম পালন করব না।” হুমায়ুন কবীরের এই তীব্র আক্রমণের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *