নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর
মুর্শিদাবাদে জনজাতি সম্প্রদায়ের এক মহিলাকে অপহরণ করে আটকে রেখে লাগাতার গণধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনায় তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্য-সহ মোট দু’জনকে গ্রেফতার করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নির্যাতিতা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা পরিচারিকার কাজ করতেন এবং বহরমপুরের একটি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কর্মসূত্রে যাতায়াত করতেন। অভিযোগ, কাজ সেরে বাড়ি ফেরার সময় তাঁকে প্রথমে উত্ত্যক্ত করা হয়। তিনি প্রতিবাদ করতেই অভিযুক্তেরা তাঁর মুখ চেপে ধরে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে খাগড়াঘাট এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বহরমপুর থানার অন্তর্গত নিশ্চিন্তপুর গ্রামের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে টানা তিন দিন তাঁকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয় এবং এই সময়ের মধ্যেই একাধিকবার ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ, অভিযুক্তেরা তাঁকে মারধরও করত।
বুধবার সন্ধ্যায় অভিযুক্তেরা বাড়ির বাইরে বেরোনোর সুযোগে নির্যাতিতা একটি ভাঙা জানালা দিয়ে কোনওক্রমে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে তিনি স্থানীয়দের সাহায্যে ফোনে পুলিশে খবর দেন এবং এরপর বহরমপুর থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বহরমপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। দু’জনেই বহরমপুর থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ধৃত অভিযুক্ত পূর্বে একটি খুনের মামলায় যুক্ত ছিল এবং বর্তমানে জামিনে ছিল। অন্যদিকে, আরেকজন স্বতন্ত্র পঞ্চায়েত সদস্য বর্তমানে তৃণমূলে এবং তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে।নির্যাতিতাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মেডিক্যাল পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে গণধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার ডিএসপি (ডিএনটি) সুশান্ত রাজবংশী বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।” শুক্রবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জনজাতি মহিলার উপর এমন পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।