আব্দুল হালিম, জলঙ্গী: প্রথমে বিষপান, তারপর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে গলায় ফাঁস—মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে এক দশম শ্রেণির ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিযোগ, এলাকারই এক যুবকের লাগাতার শ্লীলতাহানি এবং কিশোরীর বাবাকে খুনের হুমকির জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাবালিকা। তবে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ সুপার এক ভিন্ন দাবি করেছেন, যা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য।
মৃত ছাত্রীর বাবার বয়ান অনুযায়ী, গত ৬ মাস ধরে ওই যুবক তাঁর মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। কিন্তু কিশোরী ভয়ে মুখ খোলেনি। কারণ, যুবকটি হুমকি দিয়েছিল যে বাড়িতে জানালে তাঁর বাবাকে মাঠে কুপিয়ে খুন করে রেখে আসবে। নিজের বাবার প্রাণের মায়ায় দিনের পর দিন সেই লাঞ্ছনা মুখ বুজে সহ্য করেছিল মেয়েটি।
দিন পাঁচেক আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত যুবক কিশোরীর ঘরে ঢোকে। কিশোরীর বাবা বাড়ি ফিরে গোয়ালঘরের সামনে থেকে মেয়ের চিৎকার শুনতে পেয়ে দৌড়ে যান। বাবাকে আসতে দেখে অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যায়। সেই সময়ই কান্নায় ভেঙে পড়ে মেয়েটি বাবাকে গত ৬ মাসের সমস্ত অত্যাচারের কথা খুলে বলে।
এই ঘটনার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে ওইদিনই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। তিনদিন হাসপাতালে যমে-মানুষে লড়াই করার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বুধবার বাবাকে পেন কিনে আনার নাম করে দোকানে পাঠিয়ে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে।
এই ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে পরিবার। তবে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে মেয়েটির আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল।“ ঠিক কী কারণে মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।