বহরমপুর | ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫:
২৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। বহরমপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র লালদীঘিতে ফের জমকালোভাবে ফিরে এল দুর্গাপুজো। আর সেই ফিরিয়ে আনা ঐতিহ্যকে স্বাগত জানাতেই পঞ্চমীর সন্ধ্যায় শহর মেতে উঠল আলোর ঝলকে, ঢাকের বোল আর মানুষের উচ্ছ্বাসে।
লালদীঘি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোর এবারের থিম—‘দিল্লির লোটাস টেম্পল’। চোখ ধাঁধানো মণ্ডপ, জলের উপর আলোর খেলা, থিমের মুন্সিয়ানা এবং চমৎকার প্রতিমা—সব মিলিয়ে এ যেন কল্পনার রাজ্য।এই পুজো এই বছরে পৌরপিতা নাড়ুগোপাল মুখার্জির ব্যাক্তিগত উদ্যোগে হচ্ছে।

এই ঐতিহাসিক পুনরাগমনের সাক্ষী থাকতে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। পঞ্চমীর সন্ধ্যায় শহরে একাধিক পুজোর উদ্বোধন করলেও, লালদীঘির পুজোতেই ছিল মূল আকর্ষণ।
উদ্বোধনের মুহূর্তে শুভশ্রী বলেন:
“বহরমপুরে পুজোর আমন্ত্রণ পেয়ে খুব ভালো লাগছে। প্রতি বছরই আমি এখানে আসি, কখনও কালীপুজো, কখনও দুর্গাপুজোয়। কলকাতার মতো না হলেও এখানকার পুজোর আবেগ, আয়োজন কোনও অংশে কম নয়। এবছর নাড়ুদার ডাকে এসেছি। সবাইকে বলব, আনন্দ করুন, কিন্তু নিরাপদে থাকুন। মা সবার মঙ্গল করুন।”
২৫ বছর আগে একবার লালদীঘিতে দুর্গাপুজো হয়েছিল। এরপর এই প্রথম, শহরের ঐতিহ্যবাহী সুভাষ সরোবরে আবারো দুর্গার আরাধনায় মাতল বহরমপুর।

দিল্লির লোটাস টেম্পলের আদলে নির্মিত মণ্ডপটি ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। জলের উপর রঙিন আলোর প্রতিফলন, প্রতিমার অনবদ্য সাজ ও থিমের সৃজনশীলতা এই পুজোকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন,
“এটি শুধু পুজো মণ্ডপ নয়, এটি স্থাপত্যের এক শিল্পনৈপুণ্যের নিদর্শন।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার জেলা শাসক রাজর্ষি মিত্র, পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ, ও বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি।

জেলা শাসক জানান,
“আজকের দিনটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এত বড় আয়োজন স্বাভাবিক রাখাও যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জনসুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তার সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ সুপার বলেন,
“বিশেষ ট্রাফিক ডাইভারশন, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকবে।”
শুধু লালদীঘি নয়, শহরের একাধিক পুজোমণ্ডপে এদিন ছিল তারকা চমক ও জমকালো উদ্বোধন। আট থেকে আশি—সব বয়সের মানুষ একসাথে আনন্দে সামিল হয়েছেন। পঞ্চমীর সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে শুরু হয়ে গেল উৎসবের ঢেউ।

সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে এক পুজোপ্রেমী বলেন:
“২৫ বছর পরে আবার লালদীঘিতে পুজো ফিরেছে, এটা যেন একটা আবেগের জোয়ার। শুধু মণ্ডপ নয়, একটা ইতিহাস, একটা স্মৃতি ফিরে এসেছে।”
উৎসব শুরু হয়েছে, এখন বাকি কটা দিন মাতবে গোটা মুর্শিদাবাদ। মা আসছেন আবার, আর শহর তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।