নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ:
ভোটের এখনও কয়েক মাস বাকি থাকলেও, তার আগেই রক্ত ঝরল মুর্শিদাবাদের মাটিতে। শুক্রবার রাতে বহরমপুর থানার অন্তর্গত রাজধরপাড়ার কুমড়োদহ ঘাট এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে ছুরির আঘাতে খুনের অভিযোগ উঠেছে। মৃত তৃণমূল কর্মী হলেন হায়াতুল্লাহ শেখ। এই খুনের ঘটনায় সরাসরি কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে শাসক দল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশেষত যখন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর আসন্ন, তখন এই খুনের ঘটনা বহরমপুরের রাজনীতিকে আরও তপ্ত করে তুলেছে।
নিহত হায়াতুল্লাহ শেখ বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আইজুদ্দিন মণ্ডলের শ্যালক। একইসঙ্গে হায়াতুল্লাহ তৃণমূলের অঞ্চল কোর কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি পেশায় আসবাবপত্রের ব্যবসায়ী ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হায়াতুল্লাহ শেখ বাড়ির পাশে চা খেতে যাওয়ার সময় চার থেকে পাঁচজন দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে এলোপাথাড়ি ছুরি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (MMCH) নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন আইজুদ্দিন মণ্ডল।
হায়াতুল্লাহ শেখের জামাইবাবু আইজুদ্দিন মণ্ডল এই খুনের পিছনে কংগ্রেসের যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “রাতে কংগ্রেসের ছেলেদের সঙ্গে ওর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল। হায়াতুল্লাহ সক্রিয় তৃণমূল করত, আর ওরা কংগ্রেস। কংগ্রেসের ছেলেরাই পেটে ছুরি মেরেছে বলে শুনেছি। ওরা চার থেকে পাঁচজন এসে ওকে আক্রমণ করে।”

অন্যদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশের প্রাথমিক বয়ান রাজনৈতিক অভিযোগের বিপরীত ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় হায়াতুল্লাহ শেখ কিছু ব্যক্তিগত বিষয়ে স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তার তুরাপ শেখ এর সঙ্গে দেখা করতে যান। আলোচনার সময় তাদের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়, যা হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। সেই সময় হায়াতুল্লাহ শেখ আহত হন এবং পরে হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এটি আকস্মিক প্ররোচনা থেকে সৃষ্ট একটি ঘটনা। এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা রাজনৈতিক খুন নয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং বাকি দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
খুনের পিছনে কি রাজনৈতিক প্রতিশোধের যোগ আছে? নাকি ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধই প্রকৃত কারণ? কোন কারণে এই খুন, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত করছে পুলিশ। তবে বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির সরাসরি অভিযোগের কারণে বহরমপুর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।