বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহাগঠবন্ধনে (Grand Alliance) আসন ভাগাভাগি নিয়ে তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জোটের প্রধান মুখ আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব দিল্লিতে এসেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষত রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়গের সাথে কোনো বৈঠক করতে পারেননি। বৈঠক ছাড়াই তাঁকে পটনা ফিরতে হওয়ায় জোটের শরিক দল কংগ্রেস এবং মুকেশ সাহানির দল (ভিআইপি) প্রচণ্ড অসন্তুষ্ট বলে সুত্রের খবর।
নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১৪ অক্টোবর:
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহাগঠবন্দনে (RJD–Congress–Left alliance) আসন-বণ্টন নিয়ে জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব দিল্লিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে আসলেও শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে কংগ্রেস নেতৃত্ব ও বিকাশশীল ইনসান পার্টির (VIP) প্রধান মুকেশ সাহানি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সূত্র অনুযায়ী, দিল্লিতে তেজস্বী যাদবের কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সময় না মেলায় তিনি কোনও আলোচনা না করেই রাতেই পাটনা ফিরে যান। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে জোটের অভ্যন্তরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
পাটনায় ফেরার পর তেজস্বী যাদব রাবড়ি দেবীর সরকারি বাসভবনে দলীয় বিধায়ক ও প্রার্থীদের ডেকে পাঠান। সেখানে তিনি তাঁদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে নির্দেশ দেন। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক ব্যর্থ হওয়া এবং প্রার্থীপদ বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্য মহাগঠবন্ধনে ফাটল তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দিল্লিতে আলাদা বৈঠক ডেকে বিহারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা করেছে। আজ কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিরও বৈঠক হওয়ার কথা।
এদিকে, আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদব ইতিমধ্যেই কিছু আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে তাঁদের দলীয় প্রতীক (লণ্ঠন চিহ্ন) প্রদান করেছেন। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, তিনি মতিহানি, পরবত্তা ও সন্দেশ কেন্দ্র থেকে যথাক্রমে বোগো সিং, সঞ্জীব সিং ও দীপু যাদবকে মনোনয়ন দিয়েছেন। বাম শিবিরের সিপিআই (এমএল) ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মহাগঠবন্দনের এই অস্থিরতার মধ্যেই এনডিএ (NDA) জোটেও প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিজেপি ও জেডিইউ ১০১টি করে আসনে লড়ার ঘোষণা করলেও উপেন্দ্র কুশওয়াহার ক্ষোভে এনডিএ-র যৌথ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বিজেপি ইতিমধ্যেই নিজের প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়া শুরু করেছে। সূত্রের খবর, আগামী ১৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তিন দিনের জন্য বিহার সফরে যাচ্ছেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি তদারকি করবেন।
এই সমস্ত ঘটনাক্রমে স্পষ্ট, বিহারের নির্বাচনী লড়াইয়ে মহাগঠবন্ধন ও এনডিএ উভয় জোটই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আসন-বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হয়, তবে এই অস্থিরতা ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।