কলকাতা, ২০ আগস্ট: রাজ্যের পুরসভাগুলির আর্থিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে আয়-ব্যয়ের হিসাবপত্র জমা না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে রাজ্যের প্রায় ২৩টি পুরসভা সরকারের কড়া নজরে। এই পরিস্থিতি কেবল আর্থিক অনিয়মের দিকেই ইঙ্গিত দেয় না, বরং নাগরিক পরিষেবার মান এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হিসাব জমা না দিলে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া থাকা প্রতিটি অর্থবছরের বার্ষিক আর্থিক হিসাবপত্র সমস্ত পুরসভাকে জমা দিতে হবে। অন্যথায়, দফতর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। এই তালিকায় একাধিক নামী পুরসভার নাম রয়েছে, যা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের তালিকায় নামী পুরসভাগুলি
হিসাবপত্র জমা না দেওয়ার তালিকায় রয়েছে কাঁথি, কাঁচড়াপাড়া, উত্তর দমদম, রিষড়া, মুর্শিদাবাদ, আসানসোল, মাল, ধূপগুড়ি সহ একাধিক পুরসভা। রাজপুর-সোনারপুর, ফালাকাটা, গয়েশপুর, হলদিয়া, রানাঘাট, তাম্রলিপ্ত, দাইহাট, তাহেরপুর, হালিশহর নোটিফায়েড এরিয়া সম্পর্কেও একই অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মিরিক নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি—যারা গত ১৭ বছর ধরে কোনও বার্ষিক হিসাবই জমা দেয়নি। একই রকম অভিযোগ রয়েছে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ এবং বাদুড়িয়া পুরসভার বিরুদ্ধেও।
দফতর জানিয়েছে, হিসাব ছাড়া সরকারি অনুদান ও প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। ফলে সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলিকে সময়সীমার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ছাড়পত্র আটকে দেওয়া বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এমন অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এতদিন কেন এই পুরসভাগুলি আর্থিক হিসাব জমা দেয়নি? নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ এত বছর কীভাবে এড়িয়ে গেল? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই অনিয়মের জেরে নাগরিক পরিষেবা কি প্রভাবিত হয়েছে?
রাজ্য সরকারের এই কড়া পদক্ষেপ পুরসভাগুলিতে আর্থিক শৃঙ্খলাপরায়ণতা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে। তবে, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে স্থানীয় স্তরে আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নাগরিক পরিষেবা উন্নত করার স্বার্থে এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই পুরসভাগুলি কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।