নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা: রাজ্য পুলিশের কর্মী ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক নেতার কটূক্তির প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠক শেষ পর্যন্ত তুমুল বিশৃঙ্খলার মধ্যে কার্যত ভেস্তে যায়। এই বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন পুলিশ কর্মীদের পরিবারের মহিলা সদস্যরা।
প্রতিবাদকারিণীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে লাগাতার অবমাননাকর মন্তব্য করা হচ্ছে, যা শুধু কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভাঙছে না, তাদের পরিবারের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা জানান, রাজনৈতিক চাপান-উতোরে তাদের স্বামী, ভাই, বা সন্তানদের বারবার অসম্মানিত করা হচ্ছে।
তবে বৈঠকের মাঝেই বিতর্ক তীব্র হয়, যখন সাংবাদিকদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন— অতীতে বীরভূমের এক তৃণমূল নেতার মন্তব্যের পর কেন তারা প্রতিবাদ করেননি। এই প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকেই জানান, তারা শুধু সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে এসেছেন। উভয় পক্ষের বাগবিতণ্ডা বাড়তে থাকায় বৈঠক কার্যত ভেস্তে যায়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দ্রুত আসে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বিরোধী দলনেতার মন্তব্য নিন্দনীয়, তবে অনুব্রত মণ্ডলের সময় তো কোনো প্রতিবাদ হয়নি, বরং প্রমোশন হয়েছে।” অন্যদিকে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “অনুব্রতের মন্তব্যের পর দলই নিন্দা করেছে ও ক্ষমা চাইতে বলেছে, তাই আলাদা বৈঠকের প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের পর বিজেপি কোনো নিন্দা করেনি, তাই এই বৈঠক।”
অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ এই বৈঠককে “রাজনৈতিক নাটক” আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, প্রকৃত উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর পরিবারের অসন্তোষ ও ক্ষোভকে নতুন মাত্রা দিল।