নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: শনিবার বহরমপুর সার্কিট হাউসে জমিয়তে উলামায়ে-হিন্দ-এর জেলা ওয়ার্কিং কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। ভরতপুর, সালার,ডোমকল, লালগোলা, কান্দি ও বহরমপুরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিনি একদিকে যেমন জাতীয়তাবাদের জয়গান গাইলেন, তেমনই পরোক্ষভাবে বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের নাম না করে মসজিদকে কেন্দ্র করে চলা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চাপানউতোর নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে দেশপ্রেমের এক জোরালো ভিত্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা এদেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। পৈত্রিক ও জন্মসূত্রে আমরা গর্বিত ভারতীয়। ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো রক্ষা করা আমাদের পরম দায়িত্ব। আমরা বিভেদকামী কোনও বিষয়কে প্রশ্রয় দিই না।” তিনি সম্মিলিত জাতীয়তাবাদের ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতে বসবাসকারী সব নাগরিক মিলে এক জাতি।
সাম্প্রতিক ‘বাবরি মসজিদ’ নামকরণ বিতর্ক নিয়ে মন্ত্রীর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বলেন মসজিদ তৈরি হয় ইবাদত, উপাসনা ও কোরআন পাঠের জন্য। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগসূত্র নেই। মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের তিন মসজিদের পর পৃথিবীর সব মসজিদের মর্যাদা সমান—তা গ্রামে হোক বা শহরে। হুমায়ূন কবীরের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “কে বাবরির নামে মসজিদ করছে, তা তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। ইসলামে মসজিদের নামকরণের বিশেষ কোনও বিধান নেই। মসজিদ হল পবিত্র স্থান, রাজনীতির ফায়দা তোলার জায়গা নয়।”
ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে মুর্শিদাবাদবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনারা সতর্ক থাকুন, সাবধান থাকুন। প্রকৃত ভোটারদের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে ভোটার লিস্ট নিয়ে অযথা ‘হা হুতাশ’ বা কারও ভাওতায় পা দেবেন না।”
বিধায়ক হুমায়ূন কবীর অভিযোগ করেছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিম সমাজকে ব্যবহার করেছেন। এর উত্তরে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, “আজকের মঞ্চটি জমিয়ত উলামায়ে-হিন্দ-এর। যখন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে থাকব, তখন এর যোগ্য জবাব দেব। আমি গত ৪৫ বছর ধরে কলকাতায় কাজ করছি, কেউ দেখাতে পারবে না যে আমি মসজিদ নিয়ে রাজনীতি করেছি।”
সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমি মন্ত্রী হিসেবে দেশকে গড়া এবং হিন্দু-মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ করার বার্তা দিতে চাইছি। আমি যদি দাঙ্গা লাগানোর কথা বলতাম তবে আপত্তি ছিল, আমরা তো দেশ গড়তে চাইছি।”