প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও লালগোলার প্রাক্তন বিধায়ক আবু হেনা

৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত রাজনীতিক। রাজনৈতিক সততা ও জনসেবায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন।

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, 20 জুলাই: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এলো। প্রয়াত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং লালগোলার দীর্ঘদিনের প্রাক্তন বিধায়ক, প্রবীণ আইনজীবী আবু হেনা। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। আজ রবিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের রাজনীতিতে এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

১৯৫০ সালের ৩১ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের লালগোলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন আবু হেনা। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। লালগোলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন আইনজীবী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল ব্যাপক। এলাকার উন্নয়নে এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ছিল সর্বজনবিদিত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস জানিয়েছেন, “সোমবার বেলা বারোটার সময় তাঁর মরদেহ বহরমপুর জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে নিয়ে আসা হবে।” দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, তাঁর জন্মভিটে মুর্শিদাবাদের লালগোলাতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

আবু হেনা ছিলেন আব্দুস সাত্তারের পুত্র। তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তারও সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আবু হেনা নিজেও রাজ্যের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছিলেন।

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর শোকবার্তা:

প্রয়াত আবু হেনার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে  লিখেছেন:

“ভাবতে কষ্ট হচ্ছে — আমাদের প্রিয় হেনাদা, আবু হেনা সাহেব আর নেই। গত সপ্তাহেই কলকাতায় দেখা করে এলাম… আশা করেছিলাম, আবার মুর্শিদাবাদে ফিরে আসবেন, আমাদের মধ্যেই থাকবেন — আগের মতোই শক্ত হাতে পথ দেখাবেন। কিন্তু সেই দেখা যে শেষ দেখা হবে, তা কল্পনাও করিনি। দীর্ঘ পথ চলেছি আমরা একসাথে। কত লড়াই, কত প্রতিকূলতা একসাথে পেরিয়ে এসেছি। অনেক ভালো সময়ের সাক্ষী থেকেছি, আবার অনেক খারাপ সময়েও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থেকেছি। সেই প্রতিটি মুহূর্ত যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে — আর এই কঠিন মুহূর্তে এই প্রথমবার দেখছি, হেনাদা পাশে নেই… তিনি কেবল প্রাক্তন মন্ত্রী বা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন না — তিনি ছিলেন আমার সহযোদ্ধা এবং হৃদয়ের আপনজন। তাঁর আদর্শ ও মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধতা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর জীবনের সততা ও নিষ্ঠা শিক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পরম করুণাময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি — হেনাদা যেন জান্নাতবাসী হন। তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সমস্ত শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল। আমরা তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ বহন করেই লড়াই চালিয়ে যাব — সেটাই হবে আমাদের তরফ থেকে তাঁর প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা।”

জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান আবু হেনার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন:আজ রাত ১০:৪৫ মিনিটে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন লালগোলার প্রাক্তন বিধায়ক জনাব আবু হেনা সাহেব। তাঁর অবদান ও নেতৃত্ব আমাদের মনে চিরকাল জাগরুক থাকবে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।”

তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে শোক প্রকাশ করেছেন বহু নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনসেবার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার এবং একজন আইনজীবী হিসেবে তাঁর অবদান স্মরণ করছেন সকলে। তাঁর প্রয়াণ নিঃসন্দেহে রাজ্যের রাজনীতিতে এক শূন্যতার সৃষ্টি করলো। প্রয়াত আবু হেনার পরিবার ও অনুগামীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *