সিকিমের নাথুলা থেকে প্রথম দল ৩৬ জন তীর্থযাত্রীর যাত্রা শুরু
নিউজ ফ্রন্ট, গ্যাংটক, ২০ জুন: পাঁচ বছরের বিরতির পর শুক্রবার আবার শুরু হলো পবিত্র কৈলাশ মানসরোবর যাত্রা। সিকিমের নাথুলা পাস থেকে প্রথম দলের ৩৬ জন তীর্থযাত্রীকে সবুজ সংকেত দিয়ে পাঠালেন সিকিমের রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুর। ভারতীয় ভক্তদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক পুনরুজ্জীবনের মুহূর্ত।
২০১৯ সালের পর এই প্রথম সিকিম পথে তীর্থযাত্রীরা এই পবিত্র যাত্রা শুরু করলেন। রাজ্যপাল মাথুর যাত্রা শুরুর আগে তীর্থযাত্রীদের সাথে আলাপচারিতা করে তাদের নিরাপদ ও আধ্যাত্মিকভাবে পূর্ণতাপূর্ণ তীর্থযাত্রার জন্য শুভকামনা জানান। রাজ্যপাল বলেন, “কৈলাশ মানসরোবর যাত্রা পুনরায় শুরুর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।”

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর নাথুলা থেকে মোট দশটি দল যাত্রা করবে। প্রতিটি দলে তীর্থযাত্রী, সহায়ক কর্মী, রাঁধুনি এবং সরকারি কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ৪৮ জন থাকবেন। এই যাত্রা সম্পন্ন হতে আনুমানিক ২০ থেকে ২১ দিন সময় লাগবে। অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সি.এস. রাও জানান, মসৃণ রসদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একাধিক বিভাগ সমন্বয় সাধন করছে। মহামারী জনিত বিরতির পর পূর্ণ প্রস্তুতি ও রসদ সহায়তা নিয়ে এই ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু করা হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত অনলাইন কম্পিউটারাইজড লটারির মাধ্যমে মোট ৭৫০ জন তীর্থযাত্রী নির্বাচিত হয়েছেন এই বছরের জন্য। কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালে স্থগিত হওয়ার পর এই প্রথম যাত্রা শুরু হলো। সারাদেশের ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে এই কৈলাস মানসরোবর যাত্রা নিয়ে।

কৈলাশ মানসরোবর যাত্রা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থযাত্রা। মহাদেব শিবের আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত কৈলাশ পর্বত ও পবিত্র মানসরোবর হ্রদ দর্শন প্রতিটি হিন্দু ভক্তের জীবনের স্বপ্ন। তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত এই পবিত্র স্থানে পৌঁছানোর জন্য তীর্থযাত্রীদের দুর্গম পথ অতিক্রম করতে হয়। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম পথ ও কঠোর আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে এই যাত্রা সম্পন্ন করা একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ।

করোনা মহামারীর পর প্রথমবার এই যাত্রা শুরু হওয়ায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও জরুরি চিকিৎসা সেবার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।এই তীর্থযাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ বিরতির পর এই যাত্রা পুনরায় শুরু দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি ইতিবাচক দিক।
প্রথম দলের তীর্থযাত্রীরা নাথুলা থেকে যাত্রা শুরু করে তিব্বতের গ্যাংটক, গ্যাৎসে হয়ে কৈলাশ মানসরোবরে পৌঁছাবেন। এই পবিত্র যাত্রার মাধ্যমে হাজার হাজার ভক্তের বছরের পর বছরের প্রতীক্ষার অবসান হলো।