মুম্বই, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬: আজ সকালে মহারাষ্ট্রের পুণে জেলার বারামতি বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা এনডিএ (NDA)-র অন্যতম শীর্ষ নেতা অজিত পওয়ার। ভিএসআর (VSR) পরিচালিত একটি লিয়ারজেট ৪৫ (VT-SSK) বিমান অবতরণের সময় আছড়ে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। বিমানে থাকা ৫ জন আরোহীর কেউই এই দুর্ঘটনায় জীবিত নেই।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আজ সকালে বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক পূর্বমুহূর্তে বিমানটি যান্ত্রিক গোলযোগের কবলে পড়ে। এরপরই সেটি সজোরে বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছাকাছি ভেঙে পড়ে। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে যে, বিমানে উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার ছাড়াও ছিলেন তাঁর একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক (PSO), একজন ব্যক্তিগত পরিচারক এবং দুই অভিজ্ঞ পাইলট (পাইলট-ইন-কমান্ড ও ফার্স্ট অফিসার)। দুর্ঘটনার অভিঘাতে বিমানে আগুন ধরে যায়, ফলে উদ্ধারকাজের সুযোগ মেলেনি।
প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, অজিত পওয়ার ছিলেন একজন প্রকৃত ‘জননেতা’। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন:
“অজিত পওয়ার জি মহারাষ্ট্রের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে বেদনাদায়ক।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই মৃত্যুকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, গত সাড়ে তিন দশক ধরে অজিত পওয়ার মহারাষ্ট্রের প্রতিটি শ্রেণির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও এই দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত ও মর্মাহত।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বর্ষীয়ান নেতা শরদ পওয়ার এবং অজিত পওয়ারের শোকাতুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই দুর্ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের এবং সঠিক তদন্তের দাবি তুলেছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তাঁদের এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি প্রার্থনা করেছেন।
অজিত পওয়ার কেবল একজন মন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বারামতির ‘দাদা’। মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক সংস্কারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো এই নেতার প্রয়াণে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা অপূরণীয়।