এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার—উভয় পক্ষকেই আদালতের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক। প্রশিক্ষণ মডিউল নিয়ে রাজ্যের আপত্তির প্রেক্ষিতে কড়া মন্তব্য শীর্ষ আদালতের।
নয়াদিল্লি, ২৭ ফেব্রুয়ারি:
পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে চলা আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং রাজ্য সরকার—দুই পক্ষকেই আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মন্তব্য করে।
মামলার শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রশিক্ষণ মডিউল নিয়ে কড়া আপত্তি তোলে। রাজ্যের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল যুক্তি দেন, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য বিচারিক আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ মডিউল জারি করেছে। তাঁর বক্তব্য, আদালত স্পষ্ট করেছিল যে প্রশিক্ষণের কাঠামো সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নির্ধারণ করবেন, নির্বাচন কমিশন নয়।
এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ছোটখাটো বিষয়কে ইস্যু করে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। বিচারিক আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ বন্ধ করারও আহ্বান জানায় আদালত। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “না নির্বাচন কমিশন, না রাজ্য সরকার—কেউই আমাদের নির্দেশ লঙ্ঘন করবে না। আমাদের আদেশ একেবারেই পরিষ্কার।”
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, কোন কোন নথির যাচাই করা হবে সে বিষয়ে আগেই পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই এ নিয়ে বিভ্রান্তি বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণের পর আজ বিকেল সাড়ে চারটায় কলকাতা হাইকোর্টে বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির উপস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্য আগেই প্রকাশ্যে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে বিচারিক তত্ত্বাবধানে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আজকের পর্যবেক্ষণ সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।