পশ্চিমবঙ্গের স্কুল লাইব্রেরিতে মুখ্যমন্ত্রীর ১৯টি বই কেনার নির্দেশ, ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষানুরাগীরা

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ২৫ জুন: রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলির লাইব্রেরি সমৃদ্ধ করতে ২০.২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু ৫১৫টি বইয়ের তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ১৯টি বই অন্তর্ভুক্ত থাকায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা একে ‘লাইব্রেরি ঘোটালা’ বলে অভিহিত করছেন।

রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলকে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে লাইব্রেরির জন্য বই কিনতে। তবে কী বই কিনতে হবে তার একটি নির্দিষ্ট তালিকাও দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা ‘অমর জংগল’, ‘নন্দী মা’, ‘পরিবর্তন’, ‘সোজা সপ্তাহ’ সহ মোট ১৯টি বই, যার মধ্যে তাঁর আত্মজীবনীও রয়েছে।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার এক্স (পূর্বতন টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এই নির্দেশের ছবি শেয়ার করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “রাজ্যে বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে আরও একটি দুর্নীতি যুক্ত হল। পড়ুয়াদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আত্মজীবনী পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।”

মজুমদার আরও বলেন, “মমতা বনার্জি যদি সত্যিই সাহিত্যিক পরিচিতি চান, তাহলে তাঁর সাহিত্য অকাদেমিতে আবেদন করা উচিত। এটি মমতার লেখা বই প্রচারের আরেকটি ঘোটালা, যেগুলি হয় আত্মপ্রশংসামূলক নয়তো নিম্নমানের।”

প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন ASFHM-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজের পছন্দের বই কেনার অধিকার কেন দেওয়া হবে না?”

রাজ্যের শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ এই নজিরবিহীন নির্দেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “পরাধীন ভারতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর থাকাকালীন স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার স্বাধিকার হরণের শর্ত দিয়েছিল ইংরেজ শাসক। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আজ আমরা স্বাধীন দেশে শাসকের একই রকম পদধ্বনি শুনছি।”

সংগঠনটি লাইব্রেরির মতো পবিত্র জায়গায় সরকারি অনুদানের সঙ্গে কোনও শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে অবিলম্বে এই শর্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

সিপিএম নেতা ডঃ সুজন চক্রবর্তী এই বিষয়ে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করে বলেছেন, “রবীন্দ্রনাথের বই যদি ৫টা থাকে, আমি মমতা ব্যানার্জী, আমার বই ১৯টা থাকবে না কেন!? অসভ্যতার একটা সীমা থাকা দরকার।”

শিক্ষক ভর্তি দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চাকরি বিক্রির র‍্যাকেটের পর এই ‘লাইব্রেরি ঘোটালা’ মমতা সরকারের বিরুদ্ধে আরও একটি দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *