কলকাতা, ১২ ডিসেম্বর:
এন্যুমারেশন ফর্ম জমা না দিলেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। গতকাল কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজের ফর্ম জমা না দেওয়ার কথা ঘোষণা করতেই রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে আজ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো—ফর্ম জমা না দিলেও খসড়া ভোটার তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম বহাল থাকছে।
কেন থাকছে মুখ্যমন্ত্রীর নাম?
গতকাল ছিল এন্যুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। শেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ফর্ম জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে প্রশ্ন ওঠে, তবে কি খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়বেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান? এই সংশয় দূর করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নিয়মে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর:
এই সুবিধা পাবেন বিচার বিভাগের সদস্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (সাংসদ ও বিধায়ক), ঘোষিত সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিত্ব। শিল্প, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া ও জনসেবার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তি, যাঁরা ইতিমধ্যেই ভোটার ডেটাবেসে চিহ্নিত বা ‘ফ্ল্যাগড’ (Flagged) হিসেবে রয়েছেন, তাঁদের নাম ফর্ম জমা না দিলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সাংবিধানিক পদে রয়েছেন, তাই এন্যুমারেশন ফর্ম জমা না দিলেও প্রাথমিক ধাপে তাঁর নাম বাদ পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে কমিশনের তরফে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। খসড়া তালিকায় নাম থাকা মানেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া নয়।
কমিশন স্পষ্ট করেছে “চূড়ান্ত তালিকায় নাম নিশ্চিত করতে অন্য সাধারণ নাগরিকদের মতোই মুখ্যমন্ত্রী-সহ সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।”
অর্থাৎ, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর যখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত হবে, তখন নাম পাকা করতে কমিশন চিহ্নিত ১৪টি নথির মধ্যে যেকোনো একটি নথি জমা দিতেই হবে। এই ধাপে কোনো ভিআইপি (VIP) বা বিশিষ্ট ব্যক্তি ছাড় পাবেন না। নথি যাচাইয়ের পরেই মিলবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্থান।
স্বভাবতই, মুখ্যমন্ত্রীর ফর্ম না জমা দেওয়ার ‘রাজনৈতিক বার্তা’ নিয়ে চর্চা চললেও, প্রশাসনিক স্তরে তাঁর ভোটাধিকার বা তালিকায় নাম থাকা নিয়ে কোনো জটিলতা নেই বলেই নিশ্চিত করল কমিশন।