নদী ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে মমতার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’, পাল্টা দাবি কেন্দ্রের

নিউজ ফ্রন্ট, ৭ অক্টোবর:
উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্য ও উদাসীনতার’ অভিযোগের জবাবে কেন্দ্র মঙ্গলবার জানায়, ভারত ও ভুটান ইতিমধ্যেই আন্তঃসীমান্ত নদী সংক্রান্ত বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করছে, এবং পশ্চিমবঙ্গকে বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অধীনে ১,২৯০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী সোমবার অভিযোগ করেছিলেন,

“উত্তরবঙ্গ বারবার ভুগছে, কারণ কেন্দ্র সরকার ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন গঠনের আহ্বান উপেক্ষা করছে। কেন্দ্র বন্যা নিয়ন্ত্রণে কোনো সাহায্য দেয়নি, এমনকি গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যানও বন্ধ করে দিয়েছে।”

এর উত্তরে জলশক্তি মন্ত্রক (Ministry of Jal Shakti) এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছে,

“ভারত ও ভুটানের মধ্যে নদী সংক্রান্ত সমস্যা যেমন— ক্ষয়, পলি জমা ও আকস্মিক বন্যা — সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে Joint Group of Experts (JGE), Joint Technical Team (JTT)Joint Experts Team (JET)।”

মন্ত্রকের দাবি, সম্প্রতি ভুটানের পারো শহরে অনুষ্ঠিত ১১তম JGE বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশকারী আরও আটটি নদী— যেমন হাসিমারা ঝোরা, জোগিখোলা, রোকিয়া, ধাওলা ঝোরা, গাবুর বসরা, গাবুর জ্যোতি, পান্না ও রায়ডাক (I ও II)—এর ক্ষয় ও পলি জমার সমস্যা নিয়ে যৌথ সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ওই নদীগুলির ওপর বিস্তারিত সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে আগামী JTT বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে, যা এই বছরেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রক আরও স্পষ্ট করেছে,

“বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পশ্চিমবঙ্গের কোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প অর্থায়নের প্রস্তাব মুলতুবি নেই। বরং ইতিমধ্যেই Flood Management and Border Areas Programme (FMBAP)-এর আওতায় ১,২৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।”

গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক বলেছে, পশ্চিমবঙ্গে ৬২টি প্রকল্প চালু রয়েছে — যার মোট মূল্য ,৬৪৮.৫২ কোটি টাকা।
এর মধ্যে ৩১টি নিকাশি (sewerage infrastructure) এবং ৩০টি ঘাট ও শ্মশান উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রকল্প।

মন্ত্রক জানিয়েছে, এসব প্রকল্প গঙ্গা পরিষ্কার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে Namami GangeGanga Action Plan–এর অধীনে সক্রিয়ভাবে চলমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *