টাকার পাহাড়ে ‘বাবরি’ প্রকল্প!

রাজনৈতিক লক্ষ্যে অবিচল হুমায়ুন! ‘আমাকে ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যাবে না’

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর | ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের অনুদানের অঙ্ক সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। অনলাইনে ২ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং অফলাইনেও নগদ জমা পড়েছে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা। এই বিপুল জনসমর্থন পেয়ে এবার রাজনৈতিক ময়দানেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফ হুঙ্কার, “২০২৬-এ আমাকে ছাড়া কেউ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না।”

গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত দান চমকে দিয়েছে সকলকে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কিউআর কোড (QR Code) এবং ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে জমা পড়েছে ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। রবিবার থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৬টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছে ৩৭ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। বাকি ৫টি বাক্স এবং একটি বস্তা গণনার কাজ এখনও চলছে।

অনুদান গণনার জন্য ৩০ জন মাদ্রাসা শিক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো প্রক্রিয়া সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করা হচ্ছে। এমনকি বিদেশ থেকেও অনুদান আসছে বলে দাবি করেছেন বিধায়ক। তবে বিদেশি মুদ্রার অভিযোগ তিনি ‘ভিত্তিহীন প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে নাম বিভ্রাটে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন ডেবরা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর। বাবরি মসজিদের জন্য অনুদান দিতে ইচ্ছুক মানুষের ফোন তাঁর কাছে আসছে। তিনি জানান, “গত দু’দিনে প্রায় ২০০ ফোন পেয়েছি। সবাই ভাবছে আমিই সেই হুমায়ুন কবীর। আমি তাঁদের ভরতপুরের বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি।”

মসজিদ ঘিরে এই বিপুল সাড়ায় আত্মবিশ্বাসী হুমায়ুন কবীর এবার ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূল বা বিজেপি—কেউই এককভাবে সরকার গড়তে পারবে না। যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হোন, তাঁকে হুমায়ুন কবীরের সাহায্য নিতেই হবে।” ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য ৮০-৯০টি আসনে জিতে প্রধান বিরোধী দল হওয়া। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম (AIMIM)-এর সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত স্পষ্ট করেছেন তিনি। কংগ্রেসকে ‘সাইনবোর্ড’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কংগ্রেসের অস্তিত্ব থাকবে না। মিম আমার সঙ্গে থাকলে কংগ্রেসের দরকার নেই।”

বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে হুমায়ুন বলেন, “আমি কার হয়ে খেলতে নেমেছি, তা সময়ই বলবে।” অতীতে তৃণমূলের অত্যাচারে বিজেপিতে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও, এখন আর কোনও দলের প্রতি তাঁর আস্থা নেই। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের তরফে একাধিকবার বার্তা পাঠানো হলেও তিনি আর ফিরবেন না। তাঁর কথায়, “তৃণমূল আমাকে যে হেনস্থা করেছে, তা করার প্রয়োজন ছিল না।”

বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণার পর থেকেই প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন হুমায়ুন। রবিবার রাতেও এমন হুমকি পেয়েছেন তিনি। যদিও পুলিশে অভিযোগ জানাননি, তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করেছেন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চাওয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন এবং দিল্লিতে মিম প্রধান ওয়েইসির সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদের মাটিতে বাবরি মসজিদ আবেগকে কাজে লাগিয়ে হুমায়ুন কবীর যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে চাইছেন, তা ২০২৬-এর নির্বাচনে বড় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *