শান্তিনিকেতনে ‘আর্যাবর্ত ইন্টারন্যাশনাল আর্ট ক্যাম্প ২০২৫’ শুরু: শিল্প, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের মেলবন্ধন

শান্তিনিকেতন, ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫: শিল্প ও সংস্কৃতির পীঠস্থান শান্তিনিকেতনে এক নতুন মাত্রা যোগ করে আজ থেকে শুরু হলো ‘আর্যাবর্ত ইন্টারন্যাশনাল আর্ট ক্যাম্প ২০২৫’। বোলপুরের রঙ্গমাটি গার্ডেন রিসর্টে ছয় দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক শিল্পশিবিরের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা শিল্পী, গবেষক এবং সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হয়েছেন, যা শিল্পের প্রসার ও বৈশ্বিক সংযোগ স্থাপনের এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

শিবিরের উদ্বোধনী দিনে শিল্প, গবেষণা এবং বাণিজ্যের মেলবন্ধনে তিনটি নতুন উদ্যোগের সূচনা করা হয়:

১. আর্যাবর্ত অকশন হাউস (Aryavart Auction House): এই অকশন হাউসটি মূলত শিল্পকর্মের কেনাবেচার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যা শিল্পীদের তাদের সৃষ্টিকে বাণিজ্যিক মূল্য দিতে সহায়তা করবে।

২. AAOI (Aryavart Academy of International Outreach Initiative): এটি একটি আন্তর্জাতিক আউটরিচ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

৩. বিন্দু থেকে বৃত্ত’ বইয়ের প্রকাশ: বিশিষ্ট শিল্পী অমিত কল্লার লেখা গ্রন্থ বিন্দু থেকে বৃত্ত” প্রকাশিত হয়। বইটি শিল্পকর্মের গভীরতা ও দর্শনের ওপর আলোকপাত করে, যা শিল্পপ্রেমী ও গবেষকদের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ।

এছাড়াও, এই দিনে আর্যাবর্ত গ্যালারি’ এবং আর্যাবর্ত আর্ট অ্যান্ড নিউমিসম্যাটিক অকশনস’-এরও উদ্বোধন করা হয়। নিউমিসম্যাটিক অকশনস অর্থাৎ মুদ্রা ও পদক সংগ্রহের বাণিজ্যিক লেনদেনের এই উদ্যোগ শিল্প ও ইতিহাসের এক নতুন দিক উন্মোচন করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্যাবর্ত গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী বিজয় শুক্লা এবং জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার সাহা। তাঁদের উপস্থিতিতে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

রাজ্যপাল ড. সি. ভি. আনন্দ বোস এবং শিল্পপতি শ্রী সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এই আন্তর্জাতিক শিল্পশিবিরের সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। তাদের সমর্থন এই ধরনের উদ্যোগের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

আগামী ছয় দিন ধরে চলা এই ক্যাম্পে শুধুমাত্র শিল্পকর্মশালা নয়, প্রতিদিন থাকছে নৃত্য, সঙ্গীত এবং নাটকের মতো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা শিল্পচর্চার পাশাপাশি বিশ্ব সংস্কৃতির এক দারুণ আদান-প্রদান ঘটাবে। শান্তিনিকেতনের মাটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিল্পের এই সংযোগ আগামীতে বহু নতুন প্রতিভাকে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *