কলকাতা, ১৮ জুলাই: এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ফুটবল প্রতিযোগিতা, ১৩৪তম ডুরান্ড কাপের ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। বৃহস্পতিবার ফোর্ট উইলিয়ামে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও।
ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, আগামী ২৩ জুলাই কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি টুর্নামেন্টের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের ডুরান্ড কাপে পুরস্কারমূল্য প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানো হয়েছে। গতবারের ১.২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এবার মোট পুরস্কারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি টাকা! শুধু তাই নয়, গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুট এবং গোল্ডেন গ্লাভস জয়ীদের জন্য থাকছে একটি করে এসইউভি গাড়ি। এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করবে।

এবারের ডুরান্ড কাপের ম্যাচগুলো কলকাতা ছাড়াও জামশেদপুর, শিলং, কোকরাঝাড় এবং ইম্ফলে অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতার ম্যাচগুলি হবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এবং কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচ, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালও কলকাতাতেই আয়োজিত হবে।
মোট ২৪টি দল এবারের ডুরান্ড কাপে অংশ নিচ্ছে, যাদেরকে ছয়টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। আইএসএল-এর ৬টি ক্লাব, আই লিগের ৬টি ক্লাব ছাড়াও সেনার ৩টি দল খেলবে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মালয়েশিয়া এবং নেপাল থেকেও একটি করে ক্লাব অংশ নেবে এবারের টুর্নামেন্টে। বাংলা থেকে মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং প্রথমবারের মতো ডায়মন্ড হারবার এফসি খেলবে।
ক্রীড়ামন্ত্রী টিকিট বন্টন নিয়েও স্বচ্ছতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, চুক্তি অনুযায়ী টিকিট বন্টন হবে। নন-ডার্বি ম্যাচের জন্য টিকিটের সংখ্যা একরকম এবং ডার্বি ম্যাচের জন্য টিকিটের সংখ্যা অন্যরকম। টুর্নামেন্টের ম্যাচ সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকবে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক।
টানা ষষ্ঠবারের মতো ডুরান্ড কাপ আয়োজন করতে পেরে রাজ্য সরকার গর্বিত বলে জানান ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি আশাবাদী যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিটি দফতর এই টুর্নামেন্ট সফল করতে কাজ করছে এবং বাংলার ক্লাবগুলি ভালো ফল করবে।