ফরিদাবাদে জঙ্গি চক্রের পর্দাফাঁস: ৩৬০ কেজি বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার কাশ্মীরি চিকিৎসক


জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে এক কাশ্মীরি চিকিৎসক, যার বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে সম্ভাব্য জঙ্গি যোগের সূত্র।

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১০ নভেম্বর:
হরিয়ানার ফরিদাবাদে এক যৌথ অভিযানে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং হরিয়ানা পুলিশ মিলে উদ্ধার করল বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, অস্ত্র এবং গোলাবারুদ। অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে কাশ্মীরের বাসিন্দা ড. মুজাম্মিল শাকিল নামে এক চিকিৎসককে।

ফরিদাবাদ পুলিশের কমিশনার সতেন্দ্র কুমার গুপ্ত জানান, এই অভিযান ছিল “একটি বিশেষ এন্টি-টেরর অপারেশন”, যেখানে অভিযুক্তের ভাড়াবাড়ি থেকে প্রায় ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক পদার্থ, সম্ভাব্যভাবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, উদ্ধার হয়েছে একাধিক অস্ত্র, রাসায়নিক দ্রব্য ও যোগাযোগ সরঞ্জাম।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিন, মোট ৮৪ রাউন্ড গুলি, দুটি স্বয়ংক্রিয় পিস্তল, ২০টি টাইমার ও ব্যাটারি ইউনিট, ১৪টি ব্যাগে প্যাক করা জ্বালনযোগ্য রাসায়নিক পদার্থ এবং প্রায় ৫ লিটার তরল রাসায়নিক।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ড. মুজাম্মিল আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন এবং তিনি পূর্বে জইশ-ই-মহম্মদ সংগঠনের সমর্থনে পোস্টার লাগানোর অভিযোগে শ্রীনগরে ওয়ান্টেড ছিলেন।

সতেন্দ্র কুমার গুপ্ত বলেন, “এটি কোনও সাধারণ অভিযান নয়। এটি একটি বড় জঙ্গি ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। ফরিদাবাদকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে কীভাবে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, কয়েক দিন আগেই উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত এক কাশ্মীরি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে এই দুটি ঘটনা পরস্পর সংযুক্ত কিনা, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

সূত্র অনুযায়ী, ড. মুজাম্মিলের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, তিনি অনলাইন মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং দেশে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য বিস্ফোরক মজুত করছিলেন।

জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (NIA) এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতর ইতিমধ্যেই তদন্তে যুক্ত হয়েছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেশের অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা জঙ্গি চক্রের সূত্র উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।

“এই অভিযানে আমরা একটি বড় জঙ্গি ষড়যন্ত্রের সম্ভাব্য দিক উন্মোচন করেছি। তদন্ত এখনও চলছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল এই নেটওয়ার্কের মূল উৎস ও অর্থায়ন চিহ্নিত করা।”   সতেন্দ্র কুমার গুপ্ত, পুলিশ কমিশনার, ফরিদাবাদ
সাম্প্রতিক সময়ে গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশে একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানোর পর এবার হরিয়ানায় বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রের আশঙ্কা, দেশের উত্তরে জঙ্গি সংগঠনগুলি নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *