নিউজ ফ্রন্ট, ১৬ জুলাই |
বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলায় ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-র এক মিছিলে হামলার জেরে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত চারজন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন গোপালগঞ্জ জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করেছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী।
সোমবার, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জে NCP-র উদ্যোগে ‘জুলাই বিদ্রোহ’-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি জনসমাবেশ হয়। অভিযোগ, সেই সমাবেশ ঘিরেই সংঘর্ষ বাধে NCP কর্মী-সমর্থক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লিগ সমর্থকদের মধ্যে। এরপর পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, প্রশাসন কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন), ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহত অবস্থায় অন্তত ২৫ জনকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চারজনের মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে, প্রত্যেকের শরীরে মারাত্মক জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আওয়ামী লিগের ‘দমননীতি’ এবং পুলিশের ‘একপাক্ষিক ভূমিকা’-ই এই রক্তক্ষয়ের মূল কারণ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে এবং যেকোনও ধরনের জমায়েত, র্যালি বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গোপালগঞ্জে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা যে আরও তীব্র আকার নিতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলছে এই সংঘর্ষ থেকেই। তবে পরিস্থিতি যাতে আরও না বিগড়ে, সেজন্য সরকার ও প্রশাসন উভয় পক্ষই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।