অধ্যক্ষ প্রস্তাব পেশের সুযোগ না দেওয়ায় বিজেপির ওয়াক আউট, মনোজ ওরাওঁ সাসপেন্ড
নিউজ ফ্রন্ট কলকাতা, ১৬ জুন: শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে বিরোধী দল বিজেপির আনা মুলতুবি প্রস্তাবকে ঘিরে রাজ্য বিধানসভার প্রথমার্ধের অধিবেশন আজ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি নিয়ে তীব্র অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলেন বিজেপি বিধায়করা।
বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি, প্যারা টিচারদের বেতন বন্ধ এবং অযোগ্যদের আড়াল করার মতো একাধিক ইস্যুতে সরব হন। এসব অভিযোগ নিয়ে বিজেপি মুলতুবি প্রস্তাব আনলেও অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তা পেশের সুযোগ দেননি।
অধ্যক্ষ মুলতুবি প্রস্তাব পেশের সুযোগ না দেওয়ার পরেই বিধানসভার ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। এর মধ্যে বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
ক্রমবর্ধমান হট্টগোল ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাওঁকে সাসপেন্ড করেন।
মনোজ ওরাওঁর সাসপেনশনের প্রতিবাদে বিজেপির সমস্ত বিধায়ক বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করে বাইরে এসে বিক্ষোভ দেখান। বিধানসভা প্রাঙ্গণে তারা তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।
বিধানসভা থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ। তিনি বলেন, “মার্শালকে দিয়ে অধিবেশন থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে।”
বিজেপি বিধায়করা অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি রয়েছে। প্যারা টিচারদের বেতন বন্ধ থাকা, অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া এবং যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তারা।
তবে এই মুলতুবি প্রস্তাব পেশের সুযোগ না দেওয়ায় বিরোধী দল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তাদের অভিযোগ, সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রের দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহিতা এড়াতে চাইছে।
আজকের ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজ্য বিধানসভায় ক্রমাগত রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন ঘটেছে। শিক্ষা দুর্নীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দ পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিধানসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং বিরোধী দলের ওয়াক আউট রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।