বিহার ভোটে উত্তাপ বাড়ছে, তেজস্বীর জনমুখী প্রতিশ্রুতি বনাম এনডিএ-র উন্নয়ন এজেন্ডা

নিউজ ফ্রন্ট | পাটনা, ২৬ অক্টোবর:
বিহার বিধানসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটারদের মন জয়ের জন্য বিরোধী দল এবং ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে চলছে জনমুখী প্রতিশ্রুতি আর উন্নয়নের এজেন্ডা নিয়ে জোর টক্কর। একদিকে ‘মহাগঠবন্ধন’-এর মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী প্রসাদ যাদব একের পর এক আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন NDA জোট ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের মাধ্যমে উন্নয়নের রোডম্যাপ তুলে ধরছে।

তেজস্বীর প্রতিশ্রুতি: “জনগণের সরকার গড়ে তুলব”

মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী তেজস্বী প্রসাদ যাদব আজ পাটনায় এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, তাঁর সরকার ক্ষমতায় এলে পঞ্চায়েতি রাজের প্রতিনিধিদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজ চালু করা হবে।
এছাড়াও মুখিয়াদের, সরপঞ্চদের এবং অন্যান্য পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের ভাতা দ্বিগুণ করা হবে। প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের জন্য নতুন পেনশন স্কিম আনারও ঘোষণা করেন তিনি। তেজস্বী আরও বলেন, রেশন ডিলারদের কমিশন ও ভাতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসে।
তাঁর প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবীদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা—নাপিত, কুমোর, কামার প্রভৃতি কারিগরদের ৫ লক্ষ টাকার অনুদান পাঁচ বছরের মধ্যে দেওয়া হবে।তেজস্বীর দাবি, “আমরা বিহারের গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্বনির্ভর পেশাজীবীদের উন্নয়নে কাজ করব। এ রাজ্যের আসল শক্তি গ্রাম, তাই গ্রামই হবে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু।”

অমিত শাহের পাল্টা জবাব: “বিহারকে এগিয়ে নেবে ডাবল ইঞ্জিন সরকার”

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাটনায় বলেন, “শুধুমাত্র এনডিএ-র ডাবল ইঞ্জিন সরকারই বিহারকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।” তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার একসাথে নতুন বিহার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। অমিত শাহ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য বিহারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ডেটা সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” তিনি আরও যোগ করেন, “এনডিএ-র উন্নয়নের রূপরেখা পরিষ্কার—কৃষি নির্ভর শিল্প, ছোট ব্যবসার প্রসার ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা।
জনগণ আর আরজেডি ও কংগ্রেসের ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হবে না।”

বিহারের রাজনীতি এখন দুই মেরুতে বিভক্ত একদিকে তেজস্বীর জনমুখী প্রতিশ্রুতির ঢল, অন্যদিকে অমিত শাহের উন্নয়নভিত্তিক বার্তা। নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হওয়ায় দুই শিবিরই এখন জোর প্রচারে ব্যস্ত, আর ভোটাররা অপেক্ষায়; কোন পথে যাবে বিহার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *