বেলঘরিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা:
প্রকাশ্যে মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় নির্মমভাবে মারধর করা হলো এক স্কুলশিক্ষককে। উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়ার নন্দননগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়।
শনিবার ভোর ৬টা নাগাদ আঁকার শিক্ষক নিরুপম পাল একটি কালীপুজোর অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় নেতাজিপল্লী ব্লকের সামনে ঝিলের ধারে তিনি দেখতে পান এক মহিলা-সহ কয়েকজন যুবক প্রকাশ্যে মদ্যপান করছেন। প্রতিবাদ জানাতেই তাঁকে ঘিরে ধরে দলটি। মুহূর্তের মধ্যে নিরুপমবাবুকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর শুরু হয়। ঘুষি, লাথি, এমনকি মুখে আঘাতের ফলে তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে।
আক্রান্ত শিক্ষক জানান—
“আমি শুধু বলেছিলাম, খোলাখুলি মদ্যপান করা ঠিক নয়। তখনই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারতে শুরু করে। স্থানীয়রা এগিয়ে না এলে আমি হয়তো প্রাণেই বাঁচতাম না।”
স্থানীয়দের সহযোগিতায় রক্তাক্ত অবস্থায় নিরুপম পালকে উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মুখ, চোখ ও বুকে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
অভিযোগ পাওয়ার পর বেলঘরিয়া থানার পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিমতা এলাকা থেকে মন্দিরা মুখার্জি নামে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও দুই নাবালক-সহ আরও কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা স্থানীয় নয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বাকি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনায় উত্তাল স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। এক প্রতিবাদী বলেন—
“যদি একজন শিক্ষককে এভাবে রাস্তায় মারধর করা যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
বিধায়ক মদন মিত্র দাবি করেছেন, “কিছু মানুষ ইচ্ছে করে এলাকার সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”
অপরদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “বেলঘরিয়ার এই ঘটনা সভ্য সমাজের পক্ষে লজ্জাজনক।”
এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর ও টাউন কমিটির সভাপতি ঘটনার কঠোর নিন্দা করেছেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে সমস্ত দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।