নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫:
শীতের আমেজ মাখা কলকাতায় আবারও উৎসবের সুর। টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে (TSW25K) কলকাতা তার দশম সংস্করণে কেবল একটি দৌড় প্রতিযোগিতা হিসেবেই থেমে থাকেনি, বরং হয়ে উঠেছে সামাজিক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী মাধ্যম। আগামী ২১শে ডিসেম্বর, রবিবার রেড রোডে এই ঐতিহাসিক দৌড়ের সূচনা হওয়ার আগেই গড়ল এক নতুন নজির। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দৌড় শুরুর আগেই বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা, ব্যক্তিগত দাতা, রানার এবং ৪৩টি এনজিও-র সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখনও পর্যন্ত ৩২.১২ লক্ষ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তহবিল সংগ্রহের কাজ চলবে আগামী ৩রা জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত।
‘ইম্প্যাক্ট ৩৬০ ফাউন্ডেশন’-এর (Impact360 Foundation) নেতৃত্বে পরিচালিত এই জনহিতকর প্ল্যাটফর্মটি জাতিসংঘের ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’-এর (SDG) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে চলেছে। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রাপথ উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব ভারতের ৭৫টিরও বেশি এনজিও-কে ৪.৭০ কোটি টাকারও বেশি তহবিল সংগ্রহে সাহায্য করেছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ইম্প্যাক্ট ৩৬০ ফাউন্ডেশনের সিইও দেবাশীষ রায় চৌধুরী বলেন, “এ বছর টিএসডব্লিউ২৫কে (TSW25K) ‘এক দশকের পরিবর্তন’ (Decade of Difference) উদযাপন করছে। সব বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমাজসেবার প্রতি এই দায়বদ্ধতা আমাদের অভিভূত করেছে। আমরা কর্পোরেট সংস্থা, এনজিও এবং ব্যক্তিগত দাতাদের কাছে কৃতজ্ঞ।”
এবারের সংগৃহীত অর্থ ১২টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাজে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসার আক্রান্তদের চিকিৎসা, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, নারী পাচার রোধ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পুনর্বাসন। ১৬ই ডিসেম্বর আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে উঠে আসে কিছু অনুপ্রেরণাদায়ক মানুষের কথা, যাঁরা এই পরিবর্তনের মুখ হয়ে উঠেছেন:
পরিপূর্ণতা-র বেনিফিশিয়ারি গঙ্গা বসু বলেন মানসিক অসুস্থতা কাটিয়ে গঙ্গা আজ স্বাবলম্বী। তিনি বলেন, “পরিপূর্ণতায় আসার পর আমি কেবল দৈনন্দিন কাজই শিখিনি, যোগব্যায়াম ও ব্লক প্রিন্টিংয়ের মতো কাজও শিখেছি। আজ আমি গর্বিত যে এত বড় একটা মঞ্চে আমি দৌড়াতে পারছি।”
সর্বকনিষ্ঠ ফান্ডরেজার সারা তাবিশ একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী এবং বাস্কেটবল খেলোয়াড় কাজ করছেন শিশু যৌন নিগ্রহের বিরুদ্ধে। তাঁর কথায়, “শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমরা খুব কম কথা বলি। এই তহবিলের মাধ্যমে সেইসব শিশুদের কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনে সাহায্য করা হবে, যাতে তারা আবার মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।”
রেসকিউ অ্যান্ড রিলিফ ফাউন্ডেশন এর বিকাশ কুমার বলেন একসময় যাকে ‘বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী’ বলা হতো, সেই বিকাশ আজ ‘অপরচুনিটি ক্যাফে’-তে কাজ করে সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি তাঁর মতো আরও অনেককে মূলস্রোতে ফেরাতে এই দৌড়ে অংশ নিচ্ছেন।
ক্যানসার জয়ী ঝিলম একজন অদম্য রানার। তিনি টাটা মেডিকেল সেন্টারের ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসার জন্য তহবিল সংগ্রহ করছেন।
প্রোক্যাম ইন্টারন্যাশনালের যুগ্ম ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিবেক সিং বলেন, “টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতা প্রমাণ করেছে যে দূরপাল্লার দৌড় এবং পরোপকারিতা একে অপরের পরিপূরক। এই ইভেন্টটি এখন সমাজের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য নাগরিকদের একজোট হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম।”
আগামী রবিবার রেড রোড থেকে শুরু হতে চলা এই দৌড় কলকাতার মুকুটে নতুন পালক যোগ করতে চলেছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে একটি করে মানুষের জীবন বদলানোর গল্প।