অস্থিরতার মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পথে নেপাল, আলোচনায় রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান ও জেন-জি প্রতিনিধিরা

জেন-জি’দাবি মেনে সুশীলা কার্কিই কি হচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান এবং জেন-জি’র প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তরুণ আন্দোলনকারীদের একমাত্র পছন্দ হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম উঠে এসেছে।


নিউজ ফ্রন্ট, ১১ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের পর নেপালে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই সংকট সমাধানের লক্ষ্যে আজ একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এতে যোগ দেবেন নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল, সেনাবাহিনীর প্রধান অশোকরাজ সিগডেল এবং ‘জেনারেশন-জেড’ (জেন-জি) আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে মূলত ঠিক হবে, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে এবং কীভাবে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

জেন-জি’মূল দাবি

সেনাপ্রধান অশোকরাজ সিগডেলের সঙ্গে এর আগে হওয়া আলোচনায় জেন-জি প্রতিনিধিরা তাদের বেশ কিছু মৌলিক দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে প্রধান হলো:

  • সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
  • সংসদে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
  • ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু করে সরকারি পদে থাকা সব কর্মকর্তার সম্পদের তদন্ত করা।
  • দুর্নীতির মামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করা।
  • সংসদ সদস্যদের মন্ত্রী হওয়ার ক্ষমতা সীমিত করা।

সুশীলা কার্কি: জেন-জি’একমাত্র পছন্দ

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের জন্য বেশ পরিচিত। তিনি জেন-জি’র আস্থা অর্জন করেছেন, কারণ তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এবং তার সততা নিয়ে প্রশ্ন নেই।

এদিকে, নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির (মাওবাদী কেন্দ্র) চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’ একটি ১০-দফা বিবৃতি প্রকাশ করে জেন-জি আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি তরুণদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে তার সুযোগ নিতে পারে অগণতান্ত্রিক শক্তি। প্রচণ্ড আরও বলেন যে, জেন-জি’র এজেন্ডা তার দলের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গেই মিলে যায়।

বর্তমানে নেপালের প্রধান শহরগুলোতে কারফিউ জারি থাকলেও জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক রাখার জন্য সেনাবাহিনী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তা শিথিল করেছে। চলমান এই সংকট নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে ঐক্যমত তৈরি হয়, তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পথ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে নেপাল। তবে সবকিছু নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধানের সিদ্ধান্ত এবং জেন-জি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *