আইপ্যাক রেইড বিতর্ক: মমতার বিরুদ্ধে ‘তথ্যপ্রমাণ লোপাট’-এর অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি আজ

তিন শীর্ষ পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করার দাবি ইডির

নয়াদিল্লি | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

কলকাতায় আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তরে তল্লাশির সময় কেন্দ্রীয় তদন্তে বাধা দেওয়া এবং নথিপত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করল ইডি। আজ এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। একইসঙ্গে বাংলার তিন দাপুটে আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়ে নতুন করে চাপ বাড়াল কেন্দ্রীয় সংস্থা।

গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি। অভিযোগ উঠেছে তল্লাশি চলাকালীন আচমকাই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়ে অত্যন্ত রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন এবং তল্লাশিতে বাধা দেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এবং ইলেকট্রনিক নথি জোরপূর্বক নিজের সাথে নিয়ে যান।

সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া পিটিশনে ইডি জানিয়েছে, তদন্তকারী আধিকারিকদের রীতিমতো হুমকি দেওয়া হয়েছে। নথিপত্র ‘চুরি’ বা নষ্ট করে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে খোদ প্রশাসনিক প্রধানের বিরুদ্ধে। ইডির দাবি—মুখ্যমন্ত্রী জোর করে যে সব হার্ড ড্রাইভ, স্টোরেজ মিডিয়া ও ফাইল নিয়ে গেছেন, তা অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করে সিল করা হোক।

এই মামলায় ইডি সবথেকে বড় ধাক্কাটি দিয়েছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ওপর। সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা নতুন এক আবেদনে ইডি দাবি করেছে যে, তল্লাশিতে অসহযোগিতা এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ‘নথি সরাতে সাহায্য’ করার জন্য তিন শীর্ষ পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করতে হবে। এই তিন আধিকারিক হলেন রাজীব কুমার (ডিজিপি, পশ্চিমবঙ্গ), মনোজ কুমার (কলকাতা পুলিশ কমিশনার) এবং প্রিয়ব্রত রায় (ডিসি সাউথ)।

ইডির আবেদন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) এবং পার্সোনেল ও ট্রেনিং দপ্তর (DoPT) যেন অবিলম্বে এই তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে এবং তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই অফিসাররা নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে মুখ্যমন্ত্রীর আজ্ঞাবহ হয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছেন।

উল্লেখ্য, গতকালই কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইডি নথিপত্র চুরি করেছে—এই মর্মে তৃণমূলের তরফে যে আবেদন জানানো হয়েছিল, আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। ইডি অন-রেকর্ড আদালতকে জানিয়েছে যে তারা কোনো নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেনি।

আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আজ সুপ্রিম কোর্ট যদি ইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে কড়া কোনো পর্যবেক্ষণ দেয়, তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্য তা অত্যন্ত অস্বস্তিকর হবে। বিশেষ করে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এই আইনি তৎপরতা নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *