বাবরি মসজিদের শিলান্যাসে জোর ধাক্কা! ঘোষণা হুমায়ুনের, অথচ জমিই ঘিরে নিলেন মালিক

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলডাঙা: আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি ধ্বংসের বর্ষপূর্তিতেই মুর্শিদাবাদে ‘দ্বিতীয় বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ার কথা। ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। হাতে আর মাত্র দিন দশেকের অপেক্ষা। কিন্তু তার আগেই বড়সড় বিপত্তি। যে ৬ বিঘা জমিতে মসজিদ তৈরির স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, শিলান্যাসের আগেই সেই জমি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে নিলেন খোদ জমির মালিক। সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি জমি বিক্রিও করেননি এবং বিতর্কিত কোনও ধর্মীয় নির্মাণের অনুমতিও দেবেন না। ফলে বিধায়কের ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বেলডাঙায়।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের একটি জমিকে ঘিরেই গত কয়েকদিন ধরে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দাবি করেছিলেন, তিনি ৬ বিঘা জমি কিনে নিয়েছেন এবং সেখানেই ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাবরি মসজিদ গড়ে তোলা হবে।
কিন্তু বুধবার সকালে দেখা যায় সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। জমির মালিক নিজামুদ্দিন চৌধুরী (তাজিমুদ্দিন) বিতর্কিত ওই জমিটি টিন দিয়ে ঘিরে ফেলেন। বিধায়কের দাবি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এই জমি আমার। আমি কাউকে এক ছটাক জমিও বিক্রি করিনি। কেউ যদি বলে থাকেন টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন, তবে তিনি ডাহা মিথ্যে কথা বলছেন এবং চিটিংবাজি করছেন।”
জমির মালিক স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বাবরি মসজিদ একটি বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর বিষয়। মানুষের ধর্মীয় আবেগ নিয়ে কেন খেলা হচ্ছে? আমি মসজিদের বিপক্ষে নই, কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় যে মসজিদগুলো আছে আগে সেগুলোর উন্নয়ন হোক। এখানে মসজিদ না করে মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য কলকারখানা, স্কুল বা হাসপাতাল করা হলে আমরা জমি দিয়ে সাহায্য করব। কিন্তু বিতর্কিত কিছু হতে দেব না।”
হঠাৎ ওই নির্দিষ্ট জমিটি কেন আলোচনার কেন্দ্রে এল? এই প্রসঙ্গে জমির মালিক জানান, একদিন মাপজোকের সময় বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ওই জমিতে এসে বসেছিলেন। সেই দৃশ্য দেখেই স্থানীয় মানুষ এবং বিধায়কের অনুগামীরা ধরে নেন যে জমিটি কেনা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মালিকের দাবি, তাঁর খোলামেলা জমিতে চাষাবাদ হয়, সেখানে কোনও ইমারত তৈরির কথা হয়নি।
অন্যদিকে, নিজের অবস্থানে অনড় থেকে হুমায়ুন কবীর আগেই ঘোষণা করেছেন, আগামী ৬ ডিসেম্বর, বাবরি ধ্বংসের দিনেই ধুমধাম করে শিলান্যাস হবে। তাঁর দাবি অনুষ্ঠানে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে। মদিনা, দিল্লি, মুম্বই এবং কলকাতা থেকে ধর্মগুরুরা আসবেন। আমন্ত্রণ জানানো হবে আব্বাস সিদ্দিকিকেও। মসজিদটি ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে। তাঁর মতে, বাবরি মসজিদ চক্রান্তের শিকার, তাই আইনি পথেই তিনি এই মসজিদ গড়তে চান।
ইতিমধ্যেই বেলডাঙা বাজার, স্টেশন চত্বর এবং হাসপাতাল মোড়ে বাবরি মসজিদের ছবিসহ ৬ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানের পোস্টার ও ব্যানার পড়েছে। এই পোস্টার ঘিরে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে যেমন কৌতূহল আছে, তেমনই আছে আতঙ্ক। অনেকেই চাইছেন না নতুন করে কোনও ধর্মীয় মেরুকরণ বা বিতর্ক তৈরি হোক।
পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। পুলিশ এলাকায় টহলদারি শুরু করেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এই বিশাল সমাবেশের বা নির্মাণের কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। জমির মালিকের আপত্তি এবং আইনি জটিলতার পর আদৌ ৬ ডিসেম্বর শিলান্যাস সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
এখন সকলের নজর ৬ ডিসেম্বরের দিকে প্রশাসন কি এই কর্মসূচি আটকাবে, নাকি জমির মালিকের আপত্তি উড়িয়েই শিলান্যাস করবেন হুমায়ুন? উত্তর মিলবে কয়েক দিনেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *