নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরাক্কা:
রাজ্যজুড়ে যখন নাগরিকত্ব ও নথিপত্র যাচাইয়ের (SIR) আবহে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ডাকঘরের পিওনের বাড়ির পিছনে আবর্জনার মতো পড়ে থাকতে দেখা গেল সাধারণ মানুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব নথি—আধার কার্ড, এটিএম কার্ড, রেশন কার্ড এবং আরও অনেক কিছু। শুধু তাই নয়, ঘটনা জানাজানি হতেই তড়িঘড়ি সেই সব নথি মাটি চাপা দিয়ে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠল ওই পিওনের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের অর্জুনপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। অভিযুক্ত পিওনের নাম ষষ্ঠী হাজরা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয় (যার সত্যতা যাচাই করেনি নিউজ ফ্রন্ট)। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ষষ্ঠী হাজরার বাড়ির ঠিক পিছনে বিপুল পরিমাণে অবিলি করা চিঠি এবং সরকারি নথি পড়ে রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ আধার কার্ড, এটিএম কার্ড, রেশন কার্ড এবং গ্রাহকদের পার্সপোর্ট সাইজ ছবি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিওন ষষ্ঠী হাজরা দিনের পর দিন এই নথিগুলি প্রাপকদের কাছে পৌঁছে না দিয়ে নিজের বাড়িতে জমা করে রেখেছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে সেই নথিপত্রগুলি মাটি চাপা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে ডাক বিভাগ। খবর পেয়ে বুধবারই ঘটনাস্থলে ছুটে যান অর্জুনপুর ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মধুমিতা দাস। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি নথিপত্রগুলি আর দেখতে পাননি, তবে ওই নির্দিষ্ট জায়গাটি যে সদ্য নতুন মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, তা তিনি লক্ষ্য করেন।
পোস্টমাস্টার মধুমিতা দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি আজ সকালেই বিষয়টি জানতে পারি। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সব মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। একজন পিওন হয়ে তিনি সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নথি এভাবে ফেলে দিতে পারেন না। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি যা করেছেন, ভুল করেছেন। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলব এবং পুরো বিষয়টি হেড অফিসে জানাব।”
পোস্টমাস্টার যখন অভিযুক্ত ষষ্ঠী হাজরাকে ফোন করে কৈফিয়ত চান, তখন তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ষষ্ঠী হাজরা দাবি করেন, “আমাকে বদনাম করার জন্য এবং ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে কেউ বা কারা চক্রান্ত করে এই ধরনের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল করেছে।”
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যেখানে একটি আধার কার্ড বা এটিএম কার্ডের জন্য মানুষকে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়াতে হয়, সেখানে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী কীভাবে এই অবহেলা করতে পারেন? নথিগুলি ডেলিভারি না করে কেন বছরের পর বছর আটকে রাখা হলো? এসআইআর (SIR) বা নথিপত্র সংক্রান্ত কড়াকড়ির আবহে এই গাফিলতির ফলে বহু মানুষ বড়সড় সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত পিওনের বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার।