SIR নাগরিকদের সুবিধার জন্য, হয়রানির জন্য নয় – নির্বাচন কমিশন

নয়াদিল্লি | ৯ জানুয়ারি:
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও নির্দেশিকা জারি করল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, SIR কোনওভাবেই নাগরিকদের হয়রানির জন্য নয়, বরং ভোটারদের সুবিধা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রবীণ নাগরিকদের কথা মাথায় রেখেই একাধিক মানবিক ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৮৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ ভোটার, গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী নাগরিকদের আর নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিক (ERO) দফতরে হাজির হতে হবে না। তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়িতেই শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সরাসরি ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন।

এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, যেসব ভোটার কাজ, পড়াশোনা বা অন্য কারণে বর্তমানে ভিনরাজ্য বা বিদেশে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েই তাঁরা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সংশোধন বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদে, ভোটার তালিকায় নামের বানান ভুল বা ‘মিসম্যাচ’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। অনেকেই একে এনআরসি (NRC) বা দেশান্তরের আতঙ্ক হিসেবে দেখছিলেন, যার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন এই নির্দেশিকার মাধ্যমে পরিষ্কার করে দিল যে, ভোটার কার্ডের ভুল সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মাত্র এবং একে কেন্দ্র করে ভয়ের কোনো কারণ নেই।

“নির্বাচন কমিশন জনগণের বন্ধু। নথির বানান ভুলের কারণে কোনো প্রকৃত ভারতীয় নাগরিককে বিপদে পড়তে হবে না। স্বচ্ছতা ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

সামরিক বাহিনীর সদস্য ও সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবারের যে কোনও সদস্য, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ১৩টি বৈধ নথির মধ্যে যেকোনও একটি জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, সংশোধন বা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তগুলির মূল উদ্দেশ্য হল ভোটারদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমানো এবং নিশ্চিত করা যাতে কোনও যোগ্য নাগরিকের নাম ভুলবশত ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। কমিশন আরও জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং নাগরিকদের সহযোগিতার মাধ্যমেই নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে।

কমিশনের এই ঘোষণায় পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *