নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ:
অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ওটিপি পাচারের অভিযোগে মুর্শিদাবাদের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারীদের মতে, ওটিপি শেয়ার করার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘটিত জালিয়াতি, বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও সাইবার অপরাধে সহায়তা করছিল অভিযুক্তরা। টাকার বিনিময়ে বিদেশের নিষিদ্ধ গোষ্ঠী বা অবৈধ কার্যকলাপের জন্য ওটিপি (OTP) শেয়ার করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই যুবককে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদ জেলার গুধিয়া গ্রাম থেকে জুহাব সেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জুহাবকে হেফাজতে নিয়ে টানা জেরার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
কীভাবে চলত এই চক্র?
তদন্তে জানা যায়, জুহাব এবং তাঁর সহযোগী সুমন সেখ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ওটিপি দেশের বাইরে পাচার করত। বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা নিত। এই ওটিপিগুলি মূলত ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা, সাইবার অপরাধ কিংবা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন নিষিদ্ধ কাজে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের।
জুহাবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে আজ মুর্শিদাবাদের গুধিয়া দরগাতলা থেকে গ্রেফতার করা হয় এই চক্রের অন্যতম পান্ডা সুমন সেখকে। আজই তাকে বিধাননগর এসিজেএম (ACJM) আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ধৃতদের বিরুদ্ধে এসটিএফ সদর থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি ইন্ডিয়ান টেলিগ্রাফ অ্যাক্ট, ১৮৮৫ এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫ এর মতো কঠোর ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং ভিনদেশের কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে এদের সরাসরি যোগাযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
এসটিএফ-এর হাতে সুমন সেখের গ্রেফতারি নিয়ে এবার মুখ খুললেন তাঁর মা মেনকা বিবি। পুলিশের দাবি অনুযায়ী সুমন এক বড়সড় সাইবার অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, তাঁর মা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। মেনকা বিবির দাবি, তাঁর ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং কেন তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেল, সে বিষয়ে প্রশাসন তাঁদের কিছুই জানায়নি।
তিনি জানান, পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আপত্তিকর কিছু পায়নি, শুধুমাত্র দুটি পুরনো ও অকেজো মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। ছেলের খোঁজ করতে গিয়ে এক থানা থেকে অন্য থানায় হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই অসহায় মা। তাঁর আক্ষেপ, “পুলিশ শুধু বলছে আমাদের কাছে অর্ডার আছে, তাই ধরছি। কিন্তু আমার ছেলে কী করেছে, তা বলছে না।”