নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট ২০২৫ – বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশির পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার ভোগাল লেনে পার্কিং সংক্রান্ত তুচ্ছ বিবাদের জেরে নৃশংসভাবে খুন হলেন তাঁর খুড়তুতো ভাই আসিফ কুরেশি (৪২)। ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত প্রায় ১০:৩০ নাগাদ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় আসিফ দেখতে পান, তাঁর বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে একটি স্কুটার পার্ক করা রয়েছে। পথ আটকানোর কারণে তিনি স্কুটারটি সরাতে অনুরোধ করেন দুই যুবককে।
এই অনুরোধ থেকেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। এক যুবক হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা আবার ফিরে আসে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসিফের উপর আক্রমণ চালায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুরেশ সংবাদ সংস্থা পিটিআই কে জানান,
“একজন আরেকজনকে গালাগালি করছিল। তারপর হাতাহাতি শুরু হয়। এক ব্যক্তি পাথর দিয়ে আসিফকে মারেন এবং পরে বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। তৎক্ষণাৎ আমি তাঁর ভাইকে ফোন করি এবং আমরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
গুরুতর অবস্থায় আসিফকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দ্রুত তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের বয়ানের ভিত্তিতে দুই অভিযুক্ত — ১৯ বছর বয়সী উজ্জ্বল এবং ১৮ বছর বয়সী গৌতমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটিও উদ্ধার হয়েছে।
আসিফের স্ত্রী সাইনাজ কুরেশি জানিয়েছেন, এই দুই যুবকের সঙ্গে এর আগেও পার্কিং নিয়ে একাধিকবার ঝামেলা হয়েছিল। সেই উত্তেজনার রেশেই বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক পরিণতি বলেই তাদের আশঙ্কা।
এই ঘটনার পর বলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যদিও অভিনেত্রী হুমা কুরেশি কিংবা তাঁর ভাই সাকিব সেলিম এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি, পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং ন্যায়বিচার চান।
এই ঘটনায় দিল্লি জুড়ে এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে। নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলেছে শহুরে জীবনের অসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার অভাব নিয়ে।
পাশাপাশি দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন,
“এখানে প্রায়ই পার্কিং নিয়ে সমস্যা হয়, কিন্তু কেউ কল্পনাও করেনি এমন এক নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (ইচ্ছাকৃত খুন) মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হচ্ছে এবং তদন্ত চলমান। আরও কেউ যুক্ত থাকলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
আসিফ কুরেশির নির্মম মৃত্যুর ঘটনা কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি শহুরে সমাজে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার প্রতিচ্ছবি।