ট্রেন সফরের আমন্ত্রণে সাড়া! জিয়াগঞ্জের স্কুলে হঠাৎ রাজ্যপাল

নিজস্ব সংবাদদাতা, জিয়াগঞ্জ (মুর্শিদাবাদ): প্রশাসনিক প্রটোকল বা বাঁধা ধরা কর্মসূচির বাইরে গিয়ে এক অভিনব ঘটনার সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ।  তাঁর দুদিনের মুর্শিদাবাদ সফরের নির্ধারিত কর্মসূচিতে স্কুল পরিদর্শন ছিল না। তবুও সহযাত্রীর আন্তরিক অনুরোধে সেই কর্মসূচি ফেলে হঠাৎই জিয়াগঞ্জের সুরেন্দ্র নারায়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে (এস.এন. গার্লস হাই স্কুল) পৌঁছলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের এই আকস্মিক পদার্পণ ঘিরে স্কুল চত্বরে তৈরি হয় বিপুল উদ্দীপনা।

স্কুল পরিদর্শনের এই ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ আকস্মিক। জিয়াগঞ্জ সুরেন্দ্র নারায়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বাংলা শিক্ষিকা চন্দ্রানী হালদার এই প্রসঙ্গে জানান, মঙ্গলবার সকালে তিনি কলকাতা স্টেশন থেকে মুর্শিদাবাদের উদ্দেশে ট্রেনে উঠলে একই কামরায় ছিলেন রাজ্যপাল। জিয়াগঞ্জে রাজ্যপালের সফরের কথা শুনে চন্দ্রানী দেবী সহযাত্রী হিসেবে তাঁকে আন্তরিকভাবে তাঁদের স্কুলে আসার অনুরোধ করেন।

শিক্ষিকার কথায়, তিনি জিয়াগঞ্জ কেমন, স্কুলে কতজন পড়ুয়া, কী কী বিষয় পড়ানো হয় সবটাই খোঁজ খবর নেন। রাজ্যপাল শুধুমাত্র বাচ্চাদের কথা ভেবেই আমাদের স্কুলে আসার জন্য রাজি হন।” নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে দ্রুত তিনি স্কুলে আসেন।

দুপুরে রাজ্যপালের কনভয় হঠাৎ স্কুলের সামনে এসে দাঁড়ানোয় বিস্মিত হন ছাত্রীরা। তাঁকে বরণ করতে স্কুলের তরফেও তড়িঘড়ি বিশেষ আয়োজন করা হয়। শঙ্খ বাজিয়ে, পুষ্পস্তবক দিয়ে প্রথাগতভাবে রাজ্যপালকে বরণ করে নেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুল ক্যাম্পাসে ভিড় করে থাকা ছাত্রীরা করতালির মাধ্যমে রাজ্যপালকে স্বাগত জানায়। জবাবে সি ভি আনন্দ বোসও হাত নেড়ে অভিনন্দন জানান। পরে শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের তরফে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

স্কুলের শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার পর রাজ্যপাল তাদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন। তিনি প্রথমে হিন্দিতে বলেন, “মেরা ভারত মহান, ঝাণ্ডা উচা রাহেগা হামারা, ভারত মাতা কী জয়।” এরপর তিনি বাংলায় বলেন: “ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা, তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা, সে যে আমার জন্মভূমি।” কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান। চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির।” শুধু অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েই নয়, স্কুল উন্নতিকল্পে রাজ্যপাল ২ লক্ষ টাকা সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিন স্কুলে পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই রাজ্যপালের এই হঠাৎ আগমন ছাত্রীদের মধ্যে বাড়তি অক্সিজেন এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্কুলের শিক্ষিকারা। রাজ্যপালের এই ঝটিকা সফরে ছাত্রীদের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষিকা, সমস্ত কর্মীরাও প্রবলভাবে উচ্ছ্বসিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *