নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা:
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলা এবং ‘মেসি’র নাম করে চলা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশকে ‘আসল সত্য ধামাচাপ দেওয়ার কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করল বিজেপি। বুধবার কলকাতায় এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, যুবভারতীর এই ঘটনার মূলে রয়েছে শাসকদলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এদিন কড়া ভাষায় জানান, যে সমস্ত সাধারণ দর্শকদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে, তাঁরা আদতে নিরপরাধ। তাঁর কথায়, “সাধারণ মানুষ কয়েক হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসিকে দেখার জন্য। তাঁরা কোনো অপরাধ করেননি, তাঁরা প্রতারিত। অথচ পুলিশ তাঁদেরই ধরপাকড় করছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই চক্রের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের আড়াল করতেই একজনকে গ্রেফতার করে নাটক সাজানো হচ্ছে। রাজ্যের সার্বিক ব্যর্থতা ঢাকতেই সরকার আগে এসআইআর-এর (SIR) বিরোধিতা করেছিল এবং এখন এই তদন্ত নিয়ে প্রহসন চালাচ্ছে।
এদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন পরিদর্শনে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়করা। কিন্তু স্টেডিয়ামের ভিআইপি (VIP) গেট বন্ধ থাকায় তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এর প্রতিবাদে গোটা স্টেডিয়াম চত্বর ঘুরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পুলিশের ডিজি-কে পরিচালনা করে নবান্ন। সাধারণ মানুষের চোখের জল নিয়ে যারা খেলা করেছে, তাদের ছাড়া হবে না। আমরা প্রতারিতদের পাশে আছি।” শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, যে সমস্ত দর্শকদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, বিজেপি তাঁদের পূর্ণাঙ্গ আইনি সহায়তা দেবে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলাও (PIL) দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুবভারতীতে ভাঙচুর ও গোলমালের ঘটনার তদন্তে গতি বাড়িয়েছে পুলিশ। আজ ঘটনাস্থলে যান চার দুঁদে আইপিএস (IPS) আধিকারিক জাভেদ শামিম, পীযূষ পান্ডে, সুপ্রতীম সরকার এবং মুরলী ধর। তাঁরা স্টেডিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতির তদারকি করেন এবং স্টেডিয়ামের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। এই চার সদস্যের বিশেষ টিম ঠিক কী কারণে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়েছিল এবং নিরাপত্তার ত্রুটি কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, যুবভারতীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে প্রশাসনিক তদন্ত এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোর দুই মিলিয়ে সরগরম রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।